Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৯
ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বপ্ন ছোঁয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বপ্ন ছোঁয়া

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত বাংলাদেশ সফরে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বপ্ন প্রায় ছুঁয়ে গেছে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে শুধুমাত্র সরকারিভাবেই নয়, দুই দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাও অবকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ খাতে বিশাল অঙ্কের ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উচ্চ বিনিয়োগের ঘটনা পুরো বিশ্বকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে।  গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআই ও চীনা কাউন্সিল ফর দি প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-সিসিপিআইটির যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ-চায়না বিজনেস ফোরামের যৌথ সভা হয়। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চীনা রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় আসা ৮৬ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এই বৈঠকের পর দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১১টি ও বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে চীনের ব্যবসায়ীদের আরও দুটিসহ মোট ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ ও সিসিপিআইটি ভাইস চেয়ারম্যান চ্যান ঝউর উপস্থিতিতে দুই দেশের বড় ব্যবসায়ীরা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের আগে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ব?্যবসায়ীদের পক্ষে এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব?্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির, অ্যাপিলিয়ন গ্রুপের রেজাউল কবির ও চীনের পক্ষে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের সভাপতি ওয়াং জু শেং, টিবিয়ান ইলেকট্রিক অ্যাপারেটর কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ঝাওয়াংশি নিজ নিজ দেশের বিভিন্ন খাত নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, চীন আমাদের সর্ববৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনা রাষ্ট্রপতির এই সফরে দেশটির সঙ্গে আমাদের মুক্তবাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চীনে আমাদের রপ্তানি খুব শিগগিরই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, মোট ১৩টির মধ্যে ১১টিই বাংলাদেশি বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে। বাকি দুটি চুক্তি সরকারের সঙ্গে হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিতেই ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এলো। এই চুক্তি সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেবে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের কেন্দ্রস্থল। আর চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে নিশ্চয়ই লাভবান হবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ও সিল্ক রুটের আওতায় চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে দুই দেশের এই বাণিজ্য চুক্তিগুলো বিশাল সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। চীনের আরেকটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মাতলুব আহমাদ বলেন, গত বৃহস্পতিবারও আমরা ৭টি চুক্তি করেছি। আর শুক্রবার হলো ১১টি। আগামীতে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ৫০টির মতো হতে পারে। চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে নিশ্চয়ই লাভবান হবেন। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে আলাদা চুক্তি হচ্ছেই। সিসিপিআইটি ভাইস চেয়ারম্যান চ্যান ঝউ বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশে বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যেই রয়েছে। আমরা আস্থা নিয়ে এ দেশের বিনিয়োগ পার্কে বিনিয়োগ করব। আমাদেরই এই প্রতিনিধিদলে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এদেশে বিনিয়োগ করতে চান। তিনি বলেন, চামড়া, অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ওষুধ, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা চিন্তা করছি আমরা। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে এই চীনা ব?্যবসায়ী বলেন, আমাদের দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। এফবিসিসিআই ও সিসিপিআইটির মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যার মাধ?্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবেন। এ দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার ভালো পরিবেশ রয়েছে। এ কারণেই আমরা বিনিয়োগে আগ্রহী। আমাদের রাষ্ট্রপতির এই সফর উভয় দেশের শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

up-arrow