Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০
দুই দেশের সম্পর্কে নব যুগের সূচনা
--শি জিনপিং
নিজস্ব প্রতিবেদক

সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন নতুন যুগের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জায়গা থেকে কৌশলগত সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি। ২০১৭ সাল হবে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বছর। বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী ও বন্ধু। ইতিহাসের নতুর মাত্রায় দুই দেশের সম্পর্ক জনগণের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করবে চীন। সমুদ্রসীমা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করতে চায় চীন। গতকাল বিকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুই নেতা একান্ত বৈঠক করেন এবং দুই দেশের প্রতিনিধি দল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়। পরে চামেলি কক্ষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর হয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ‘ওয়ান-বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতি ধরে এগিয়ে যাওয়া চীনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের এই ঢাকা সফর। ১৯৮৬ সালে লিশিয়ানইয়ানের পর বাংলাদেশে আসা প্রথম চীনা রাষ্ট্রপ্রধান তিনি।

বাংলাদেশ চীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার : এদিকে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ বলে মনে করে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন?্য আমরা প্রস্তুত। দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ককে আমরা আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চাই। ৪১ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব সব সময়ই সামনের দিকে এগিয়েছে। রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির জন্য চীন ও বাংলাদেশকে উন্নয়নের একই চ?্যালেঞ্জের পথে হাঁটতে হচ্ছে মন্তব?্য করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা বলেন, তার দেশের মানুষ এক ‘মহৎ রূপান্তরের’ জন?্য কাজ করছে। আর বাংলাদেশ কাজ করছে ‘সোনার বাংলা’ গড়তে। শি জিনপিং আরও বলেন, চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় ও ভবিষ্যৎ? সহযোগিতার ব্যাপারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা হবে; যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা করবে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে : এদিকে বিকালে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ অন্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশ একটি চমৎকার সম্ভাবনাময় দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে অনেক এগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় এবং বহু বিনিয়োগকারী এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন। চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিরাজমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। ’ স্পিকার চীনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

 

 

up-arrow