Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০১
ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে ঢাকা-বেইজিং
-- শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এ কৌশলগত অংশীদারত্বের অধীন আমরা দুই দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছি। আমরা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের এ প্রচেষ্টার লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের জ্ঞানভিত্তিক মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনামুক্ত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব।’ গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ সফররত চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। লা মেরিডিয়ান হোটেলে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। সেখানে তাকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একান্তে বৈঠকে বসেন দুই নেতা। সেখানে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে চীন ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা ছয়টি প্রকল্পও উদ্বোধন করেছি। এ চুক্তি ও প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের পর দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাবে। আজকে আমরা ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কয়েক মিনিট আগে আমাদের উভয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা ‘এক চীন নীতি’তে আমাদের জোরালো সমর্থন দিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃষি খাতে একযোগে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এখানে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাক্ষী হলাম। এ চুক্তিগুলো হয়েছে ব্যবসা, বিনিয়োগ, সমুদ্র অর্থনীতি, বিসিআইএম-ইসি, সড়ক ও সেতু, রেলপথ, পাওয়ার, সমুদ্র, আইসিটি, শিল্পোৎপাদন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতার উন্নয়নসংক্রান্ত।’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রমুখ।

up-arrow