Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০১
এটা বড় সুযোগ চ্যালেঞ্জটাও বড়
রুহুল আমিন রাসেল
এটা বড় সুযোগ চ্যালেঞ্জটাও বড়
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকে ‘নতুন সুযোগ ও একই সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মূল্যায়নে—এই সফরে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্ত করার আরেকটু উল্লেখযোগ্য বা উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর সঙ্গে বহুদেশীয়, বহুপক্ষীয় ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক যে দাঁড়াচ্ছে—তা ভারসাম্যপূর্ণভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার চ্যালেঞ্জটাও অনেক বড়। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, অন্য সবার মতো আমিও চীনা রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছি। বাংলাদেশ একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাময় সুযোগকে আরও বিকশিত করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে। তবে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের পক্ষে এই বহুমাত্রিক এবং বহুমুখী কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা নিঃসন্দেহে আরও একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জটা আরও বাড়বে। ভারসাম্যপূর্ণভাবে বহুমুখী ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক যেগুলো বাংলাদেশ সম্প্রতি করছে—ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, জাপান, রাশিয়া ইত্যাদি। কিন্তু এটাকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার চ্যালেঞ্জটাও অনেক বড়। তবে বাংলাদেশ সফল হবে আশা করি।

দেশের অর্থনীতির এই প্রাজ্ঞ বিশ্লেষক বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক সম্পর্ক কী কী শর্তাবলীর ভিতর দিয়ে গড়ে উঠছে, এতে একটু স্বচ্ছতা কামনা করি। শর্তের স্বচ্ছতা কামনা করি। এটা যে সর্বোত্তম উৎস। সেটার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। আফ্রিকা ও আমাদের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় প্রচুর উদাহরণ আছে যে, চীনের উৎস থেকে ব্যাপক পরিমাণ অর্থ নিয়ে, ঋণের পরিমাণ দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে গিয়ে দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। সেটারও বিবেচনার বিষয় আছে। আরেকটি হলো—অবকাঠামোগত দিক থেকে চীনের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ক্রমান্বয়ে; একে বাংলাদেশকে ভুটান, নেপাল এবং তারও পরে বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর দিকগুলো দেখতে হবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এক কথায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্ত করার, আরেকটু উল্লেখযোগ্য বা উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই সফরে আলোচিত অনেকগুলো প্রকল্প বেশকিছু দিন যাবৎ আলোচনায় ছিল। চীনের রাষ্ট্রপতির আসা উপলক্ষে, রাজনৈতিক উপলক্ষকে আরও জোরদার করার জন্য তা স্মারকের আকারে সংহত করা হলো।

 

up-arrow