Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৪
মোদির সঙ্গে হাসিনার বৈঠক
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
ঋতুপর্ণা রায় ও শাহ আলী জয়, গোয়া (ভারত) থেকে
মোদির সঙ্গে হাসিনার বৈঠক
ভারতে গোয়া রাজ্যে গতকাল বৈঠকে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

গতকাল সকালেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টুইট অভ্যর্থনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকস এবং বিমসটেক-এর হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশকে পৃথক গুরুত্ব দিতে  চেয়ে এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোয়ায় পৌঁছানোর পরই বাংলায় টুইট করেন মোদি। তিনি লেখেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার আতিথ্য গ্রহণ করায় আমি সম্মানিত। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য আপনার ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানাই।’’ গতকাল রাতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বসেন মোদি-হাসিনা। তার আগে ব্রিকসের দেশগুলোর সঙ্গে বিমসটেকভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর বৈঠকে একটি বক্তৃতায় সন্ত্রাসবাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুলশান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এই প্রথম তাত্পর্যপূর্ণভাবে ভারত সফরে এলেন হাসিনা। আজ তার বক্তৃতায় তিনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিমসটেকই হোক অথবা ব্রিকস— কোনো গোষ্ঠীভুক্ত উদ্যোগই খুব একটা এগোবে না, যদি না সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা সম্ভব হয়। তার কথায়, ‘‘বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সন্ত্রাসবাদ এবং হিংসাত্মক চরমপন্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। খুঁজে বের করতে হবে সন্ত্রাসবাদের মস্তিষ্ক, আর্থিক জোগানদার, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের।’’ এ ব্যাপারে তার দেশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সে সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, যুবা সম্প্রদায়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক হারে প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায়। ব্রিকসের ধনী দেশগুলো যাতে বিমসটেকের অপেক্ষাকৃত কম সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোর হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যায়, তারও আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন— ‘‘এই দুই পক্ষই যদি কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের মোকাবিলা না করে, তাহলে স্থায়ী উন্নয়ন ঘটানো আসলে সম্ভব নয়।’’ উরি কাণ্ডের পর কড়া নিন্দা জানিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

উরি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম সার্ক বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল মোদির সঙ্গে তার বক্তৃতায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাস প্রসঙ্গও। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তিস্তা প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে তার আগেই অর্থাৎ আগামী বছরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তিটি সম্পাদন করতে চায় ঢাকা, সে কথা মোদিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি আর নেহায়েতই পানি চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বাংলাদেশের জনমানসের আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার ওপর যে অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ রয়েছে, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লিকে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বিরোধী দল, সরকারের জোট শরিক এমনকি তার নিজের দলের মধ্যে থেকেও বিষয়টির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই স্বরই উঠে আসছে যে, ক্ষমতায় বসার পর থেকে লাগাতার ভারত সরকারকে সীমান্তপারের সন্ত্রাস প্রশ্নে সহযোগিতা করে আসছে ঢাকা। ভারতবিরোধী যেসব জঙ্গি ঘাঁটি বাংলাদেশের মাটিতে ছিল সেসব নির্মূল করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদানে ভারত কী করছে, এ প্রশ্নটিও অনিবার্য হয়ে উঠছে। সূত্রের খবর, মোদি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে দেশের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ঐকমত্য তৈরি করে সামনের দিকে এগোনো হচ্ছে। গত বছর ঠিক এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে স্থলসীমান্ত চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সে সময় মমতা ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে রয়েছেন। এবার তিস্তার ক্ষেত্রেও মমতার আপত্তিগুলো আলাপ-আলোচনা করে যাতে দ্রুত চুক্তিটি নিয়ে বাস্তবায়নের পথে হাঁটা যায়, সে ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।

up-arrow