Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৫
তারেকের সাজা পরোয়ানার নির্দেশ
অর্থ পাচার মামলায় সাত বছর কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের পর সাজা কার্যকর
নিজস্ব প্রতিবেদক
তারেকের সাজা পরোয়ানার নির্দেশ

অর্থ পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ সংবলিত হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায় প্রকাশ হয়।

হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়, পলাতক তারেক রহমান আত্মসমর্পণ করলে বা তাকে গ্রেফতার করার পর থেকে তার দণ্ড কার্যকর হবে। ৮২ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন। এর আগে তারেক রহমানকে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করে ২১ জুলাই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া তারেকের ব্যবসায়িক বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। নিম্ন আদালতের রায়ে মামুনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের রায়ে তাকে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এই মামলায় নিম্ন আদালত থেকে তারেক রহমান বেকসুর খালাস পেলেও একই আদালত মামুনকে অর্থদণ্ডসহ সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। শুনানি শেষে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হয়। ঘুষ হিসেবে গ্রহণের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলায় ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। তবে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাসহ সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে। তিনি দেশে না ফেরায় তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতারের পর থেকেই মামুন কারাগারে। গত ১৬ জুন তারেকের খালাস ও মামুনের সাজার বিরুদ্ধে দুদকের আপিলের শুনানি শেষে ওই দিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এ মামলায় দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, মামুনের পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ফখরুল ইসলাম ও কায়সার কামাল শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির। তারেক পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তারেক ও মামুনের মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি এ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তারেক রহমানকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। এরপর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি কার্যতালিকায় এলে গত ১২ জানুয়ারি আবারও বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ ও আপিলের বিষয়ে অবহিত করতে গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় হাইকোর্ট বিভাগ। চার্জশিটে থাকা দুই ঠিকানায় (লন্ডন ও ঢাকা) সমনের নোটিসও পাঠানো হয়। এর আগে ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে আদালত। ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন নির্মাণ কাজ পাইয়ে দিতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ঘুষ নেন মামুন। ওই টাকা পরে সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়, যার মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন তারেক।

up-arrow