Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৯
চীনের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় জাপায় তোলপাড়
শফিকুল ইসলাম সোহাগ

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ঢাকায় সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় জাপার ভিতরে ও বাইরে তোলপাড় চলছে। পার্টির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথি সফরে এলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে এটাই নিয়ম।

কিন্তু একের পর এক রাষ্ট্রীয় অতিথি দেশে এলেও বিরোধীদলীয় নেতা সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। এতে মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না। জাতীয় পার্টি যে কাগুজে বিরোধী দল তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশের বিরোধী দল কে? বিএনপি যদি প্রধান বিরোধী দল হয় তাহলে জাতীয় পার্টির পরিচয় কী? জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চীনে একদলীয় শাসনব্যবস্থা। আর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণা আছে বলে প্রতীয়মান হয় না। ’ তিনি আরও বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট আমাদের দু-একটি দলের সঙ্গে কথা বললেন। আর বাকি দলগুলো রয়ে গেল। এতে তারা ছোট হয়েছে না আমরা ছোট হয়েছি এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ নেই। ’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা চীনের সহযোগিতার কথা মনে রাখব। তবে আমাদের রাজনীতির জন্য তাদের স্মরণ করার দরকার আছে কিনা আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে। ’ জানা যায়, গেল বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের আগে জানা যায়, সফরকালে মোদি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু সফরকালে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বৈঠক করা তো দূরের কথা, মোদি সাক্ষাৎ করতেও আগ্রহ দেখাননি। পরবর্তী সময় জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের অনুরোধে নামেমাত্র সাক্ষাৎ করেন মোদি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফরকালেও সাক্ষাৎ পায়নি এ দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন ঘিরেও জাপার পক্ষ থেকে প্রত্যাশা ছিল তার সঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে বৈঠক করার সুযোগ পাবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। এতে দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দারুণভাবে হতাশ। তারা এজন্য বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিনের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন। প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য জানান, এ নিয়ে দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ মর্মাহত হয়েছেন। একের পর এক এ ধরনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দলকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে কয়েকজন সিনিয়র নেতা অভিমত প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার রাতে চীনের প্রেসিডেন্টের সম্মানে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নৈশভোজের আয়োজন করেন। ওই ভোজে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদসহ সংসদ সদস্যরাও আমন্ত্রণ পান। কিন্তু জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা হয়েও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে না পারার মনোকষ্টে অসুস্থতার অজুহাতে ওই ভোজেও অংশ নেননি রওশন এরশাদ।

শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে এসে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ কিংবা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ— কারও সঙ্গেই দেখা হয়নি তার। অথচ চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং কিছুদিন আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে বৈঠক করেন। কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বরাবরই কূটনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে থেকে যাচ্ছি। এটা ভালো লক্ষণ নয়। দলের নেতা-কর্মীরা দারুণভাবে হতাশ। দেশবাসীর কাছেও আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদের অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয় এর পেছনে বার বার ব্যর্থতার জন্য কোথায় দুর্বলতা? এটা কূটনৈতিক দুর্বলতা নাকি রাজনৈতিক ব্যর্থতা। এটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। ’ এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ভিত তৈরি করেছিলেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তার শাসনামলে প্রথমবারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরশাদ ছয়বার চীন সফর করেছেন। এবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো বৈঠক না হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, জাপাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে না। ’ তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বড় বিনিয়োগ করছে, সরকারের বা রাজনীতির পটপরিবর্তন হলে যেন বিনিয়োগ ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে চীন একটা সুসম্পর্ক রাখতে চায়। সেখানে চীন জাপার সঙ্গে বৈঠক করেনি কিন্তু বিএনপির সঙ্গে করেছে। এটি জাপার জন্য একটা সংকেত। জাপার রাজনৈতিক গুরুত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমে যাচ্ছে। তা থেকে উত্তরণের জন্য কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এর একটা কারণ হলো জাপার সংগঠন আছে, কিন্তু রাজনীতির স্বচ্ছতা নেই বলে গ্রহণযোগ্যতা কমছে। মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। ’

 

up-arrow