Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০২
দেশে মার্শাল ল’র কবর রচিত হয়েছে
প্রতিদিন ডেস্ক
দেশে মার্শাল ল’র কবর রচিত হয়েছে

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘আগে সকলেই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক সরকারের অঙ্গ হিসেবে মনে করতেন। প্রকৃত অর্থে বিচার বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের অঙ্গ এবং এখন হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্বাধীনতা নিয়ে বিচার বিভাগ কাজ করছে।’ খবর এনআরবি নিউজের।

গত রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল) নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়ায় ক্লাব সনমে প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল সোসাইটি’। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের নেতা অ্যাডভোকেট শাহ বখতিয়ার। শুরুতে ল সোসাইটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এমএ ওয়াহিদের নেতৃত্বে অইনজীবীরা প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ ল সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণেই প্রধান বিচারপতি সংক্ষিপ্ত এক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন ১৫ অক্টোবর শনিবার সকালে। এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এবং মঞ্চে উপবেশন করেন বিচারপতি আবুল তারেক, বিচারপতি এম আর হাসান, সংসদ সদস্য ওয়ারেস হাসান খান বেলাল, মার্কিন অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান প্রমুখ। বিষয়ভিত্তিক এ আলোচনায় প্রধান বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী সরকার গঠন ও পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন বলেই মার্শাল ল আর কখনোই বাংলাদেশের মানুষের ওপর চেপে বসার সুযোগ পাবে না। বাংলাদেশের আইন বিভাগ মার্শাল ল কে চিরতরে কবর দিতে সক্ষম হয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন সেক্টরের মতো বিচার বিভাগেও কিছু দুর্নীতি এখনো রয়েছে। এটি অস্বীকারের উপায় নেই। তবে তার অবসানে আমরা সবাই আন্তরিক অর্থেই সচেষ্ট রয়েছি।’ এস কে সিনহা বলেন, ‘বিচারের জট খুলতে আমি শুরু থেকেই তত্পর। সে কারণে অনেকটা কমেছে। ক্রমান্বয়ে বিচার নিয়ে বিলম্ব ঘটার বিড়ম্বনা একেবারেই কমে যাবে।’ ‘বিচার বিভাগ যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে এখন। সুতরাং পরবর্তীতে যারা কাজ করবেন, তাদের বড় ধরনের সমস্যা হবে না। এখন থেকে সবকিছু আইন অনুযায়ী চালাতেও কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।’ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এস কে সিনহা বলেন, ‘আমার বিচার বিভাগ এখন হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্বাধীন। সরকারের কোনো পর্যায় থেকেই কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ঘটনা নেই। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধসহ স্পর্শ কাতর সব মামলা পরিচালিত হচ্ছে আইন অনুযায়ী। রাজনৈতিক কারণে অনেকে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবতারণা করছেন। যদিও সেই রাজনীতিকরাও পুরো সুবিধা পাচ্ছেন নিজেদের মামলাতেও। এটি সর্বজনবিদিত। আর এভাবেই বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষায় বিচার বিভাগ তার ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করছে।’ ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এখন একযোগে কাজ করছে’—বলেন প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখন কোনো কিছুই চেপে রাখা সম্ভব নয়। মিডিয়া সোচ্চার থাকায় আমরাও সঠিকভাবে কাজে তৃপ্তি পাচ্ছি।’ সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বহুমুখী কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার চলছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে জ্বালাও-পোড়াওসহ জঙ্গিবাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর তিনি ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে বোস্টনে তার স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হবেন।

up-arrow