Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৫
ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার, ফের প্রশংসায় ইয়ং কিম
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও বরিশাল
ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ
গণভবনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্বব্যাংক-প্রধান জিম ইয়ং কিম তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ছাড়ার আগে বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।’ দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্যে অভিভূত জিম ইয়ং কিম।

গতকাল বিকালে সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ দেন তিনি। সেই সঙ্গে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ গড়তে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাবে। প্রায় ১০ বছর পর বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার কেউ বাংলাদেশ সফর করলেন। জিম ইয়ং কিম ঢাকা এসেছেন রবিবার রাতে। গতকাল পরিদর্শন করেছেন বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বসবাসকারী গ্রামীণ মানুষদের। দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। সফর শেষে আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময় করে বলেন, ‘বাংলাদেশকে দেখে আমি মুগ্ধ। এ দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণ কীভাবে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে তা দেখেছি। স্বাধীনতার জন্য বহু মানুষের আত্মত্যাগ, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নতুন কৌশল, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় লড়াই করাসহ মুগ্ধতার অনেক উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। এ দেশের মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক নিবিড়। বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডা) মাধ্যমে গত ৪৫ বছরে ২৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। আমরা বাংলাদেশ থেকে শিখছি এবং বাংলাদেশও আমাদের কাছ থেকে শিখছে। আসছে বছরগুলোয় আইডা ও আইএফসি দুটি খাতের মাধ্যমেই সহায়তা আরও বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলাসংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করা হবে।

বরিশালে কিম : বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়ং কিম বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন) থেকে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। এটি দেখে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করেছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের কিম বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা বেশ পরিশ্রমী। তাদের জীবনমানের উন্নতি দেখে বিশ্বব্যাংক খুশি। দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম পরিদর্শন শেষে তিনি পাশের উপজেলা উজিরপুরের বামরাইল ইউনিয়নের ভরসাকাঠি গ্রামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ভরসাকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় সাইক্লোন শেল্টারের মধ্যে নির্মিত আপদকালীন প্রসূতি কক্ষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরে স্কুলভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি একই গ্রামে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। বিদ্যুিবহীন এ গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবার সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের জীবনমানের যে উন্নয়ন করেছে, তা প্রত্যক্ষ করেন ড. কিম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow