Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৭
নেতা-কর্মীদের পদভারে উৎসবমুখর কার্যালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আর মাত্র কদিন বাকি। তাই এ সম্মেলন ঘিরে দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর মধ্যে উদ্দীপনা আর উচ্ছ্বাস।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় তাদের পদভারে এখন মুখরিত। সম্মেলনস্থল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও প্রতিদিন শত শত নেতা-কর্মী ছুটে যাচ্ছেন। দুটি কার্যালয়সহ সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন বর্ণিল সাজে সজ্জিত। কদিন ধরে সরেজমিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডির কার্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সম্মেলন উপলক্ষে দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা নিয়মিত বসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে। সেখানে প্রতিদিনই সম্মেলন প্রস্তুতিবিষয়ক নানা উপকমিটির বৈঠক হচ্ছে। এসব বৈঠকে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতা ছাড়াও কমিটির সদস্যরা যোগ দিচ্ছেন। বৈঠক শেষ করে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এ দুটি স্থানে দলের শীর্ষ নেতারা এলেই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন সেখানে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে নিজেদের উপস্থিতি দেখিয়ে পদপ্রত্যাশী নেতারা তাদের সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রত্যাশা করছেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো উপকমিটি সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করে নেতারা গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পেতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন নেতা-কর্মীরা। বিকাল হলেই ভিড় বাড়ে ধানমন্ডির কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সম্মেলনের এবারের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। সম্মেলন ঘিরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। পাশাপাশি কার্যালয় দুটির আশপাশের রাস্তায়ও রংবেরঙের বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনস্থলের প্রবেশপথগুলোয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়েছে। এরই মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশে মাইক টানানো শুরু হয়ে গেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্মেলনের বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন থেকেই জোরদার করা হয়েছে। জানা গেছে, মঞ্চের উচ্চতা হবে প্রায় ৩০ ফুট।

মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। মঞ্চের সামনের দিকে একটি গ্যালারি তৈরি করা হবে; যার আয়তন হবে ২৩০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ১২৫ ফুট প্রস্থ। সেখানে সাত হাজার অতিথির আসন থাকবে। সম্মেলনে ৩৫ হাজার ডেলিগেট ও কাউন্সিলর অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দলীয়ভাবে তাদের দুই দিন থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার কাউন্সিলর-ডেলিগেটের বসার জন্য পৃথক স্থান ও ভিন্ন রকমের চেয়ার থাকবে। বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন এবং রাতযাপনের ব্যবস্থাও করা হবে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশদ্বারে এবং সম্মেলনস্থলের চারদিকে একাধিক মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ প্রবেশপথগুলোয় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে প্রবেশপথগুলোয়। আলোকসজ্জা করা হবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ প্রবেশপথে। সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারের সব উন্নয়ন কার্যক্রম ভিডিও ক্লিপিংসের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow