Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৭
গুলশান হামলার অর্থদাতা জাহিদ রোকন তানভীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নৃশংস জঙ্গি হামলার বড় অংকের তিন অর্থদাতাকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন— পরিবার নিয়ে সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি ডা. রোকন উদ্দিন খন্দকার রোকন, আজিমপুরে নিহত তানভীর কাদরী ও মিরপুরে      জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তারা হামলার অর্থ জোগান দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর তেজগাঁও থেকে সোমবার রাতে জেএমবির (জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেএমবির এ সদস্যরা অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার অর্থ জোগাতে ডাকাতি, ছিনতাই ও জাল টাকার কারবারে জড়িয়ে পড়ে। গত ১ জুলাই রাতে জঙ্গিরা হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুজন কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং রেস্তোরাঁর এক কর্মচারী নিহত হন। সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, সিরিয়ায় পাড়ি জমানোর আগে ডা. রোকন নব্য জেএমবির তহবিলে ৮০ লাখ টাকা দিয়ে যান। তবে তিনি যাকে টাকাগুলো জমা দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি পুরো টাকা জমা না দিয়ে কিছু টাকা মেরে দিয়েছেন। একজনের কাছে দশ লাখ টাকা দিলে তিনি ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা নিজেই হাতিয়ে নেন। মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জাহিদ তার অবসর ভাতার পুরো টাকা নব্য জেএমবির তহবিলে দিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ টাকা দিয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আজিমপুরে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদরী উত্তরার কোটি টাকার ফ্ল্যাট বিক্রি করে সে টাকা নব্য জেএমবির তহবিলে জমা দিয়েছিলেন। বিদেশে থাকা কোনো কোনো সদস্যের কাছ থেকেও অর্থ এসেছে। এ ছাড়া আরও অর্থদাতা থাকতে পারেন। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে অস্ত্র, সোনা, টাকা ও বিপুল পরিমাণ লুটের মালসহ সাত জেএমবি সদস্যকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন— কাশেম ওরফে কাউসার ওরফে কাশু (২০), নাজমুল হাসান নয়ন ওরফে নরেশ (২৩), রাশেদ ওরফে কাকলির বাবা (২৭), সেন্টু হাওলাদার ওরফে জাহিদ (২৬), আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে শুভ্র ওরফে আকাশ (২০), আবদুল বাছেদ (২২) ও জুয়েল সরকার ওরফে সোহরাব ওরফে সরকার (৩২)। তাদের কাছ থেকে ৬৭ ভরি  সোনা, ছয় লাখ টাকা, চারটি পিস্তল, পাঁচটি ম?্যাগাজিন, দশ রাউন্ড গুলি, ৯টি চাপাতি, টেলিভিশন, ল্যাপটপ ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন লুটের মাল উদ্ধার করা হয়েছে। মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত সাতজন পুরনো জেএমবির সদস্য। মাওলানা সাঈদুর রহমান ও আবু তাসনিম তাদের নেতা। তারা এখন কারাগারে। পুরনো  জেএমবির বর্তমান আমির সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন ভারতে পালিয়ে গেছেন।

জেএমবির কারাবন্দি নেতাদের মামলার খরচ চালানো, মামলা পরিচালনা, অস্ত্র-বিস্ফোরক কেনার পাশাপাশি সংগঠনের খরচ মেটাতে জেএমবির ‘পুরনো অংশের’ সদস্যরা ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নেতাদের মুক্ত করতে ভালো উকিল নিয়োগের জন?্য টাকা সংগ্রহে এরা ডাকাতি করত। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বনানী ও তেজগাঁওয়ে দুটি ডাকাতির ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মনিরুল ইসলাম জানান, পুরনো জেএমবির সঙ্গে আনসার আল ইসলামের একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তবে নব্য জেএমবির সঙ্গে পুরনো জেএমবির খুব বেশি সুসম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow