Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৮
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিষ্কলুষদের হাতে থাকা প্রয়োজন
বাদল নূর
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিষ্কলুষদের হাতে  থাকা প্রয়োজন
শেখ আবদুল আজিজ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিটি নেতার কর্মিবান্ধব হওয়া জরুরি বলে মনে করেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ আবদুল আজিজ।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে গতকাল গুলশানের বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ আবদুল আজিজ এ অভিমত প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, নিষ্কলুষ ও সুশৃঙ্খল মানুষের হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থাকবে—এটিই আমার চাওয়া। তবে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে বলেই আজ দলটি ক্ষমতায় বলে তিনি মনে করেন। ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন বলে শেখ আবদুল আজিজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় তিনি যোগাযোগ, কৃষি, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের ৯ নম্বর সেক্টরের লিয়াজোঁ অফিসার ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন সুপ্রিমকোর্টে আইন পেশায়ও তিনি নিয়োজিত ছিলেন। শেখ আবদুল আজিজ ১৯২৯ সালে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি পাস করেন। তিনি গুলশানের ৭ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে বাস করেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে শেখ আশিক হাফিজ প্রকৌশলী। তিনি আমেরিকায় চাকরি করেন। বড় মেয়ে সিমিন শেখও আমেরিকায় চাকরি করেন। ছোট মেয়ে নাবিন শেখ মেঘলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ আবদুল আজিজ বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন খাঁটি বাঙালি। তিনি কল্যাণমূলক দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা তিনি করে যেতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে শেখ আবদুল আজিজ বলেন, এ মেয়ে তো মেয়ে নয়, দেবতা নিশ্চয়। মেয়ে হয়েও তিনি পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করছেন। তিনি বলেন, ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শ হত্যা করতে পারেনি। তার মেয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বেশি উন্নয়ন করছেন। শেখ হাসিনা যোগ্য নেতা। তিনি বলেন, খুনিদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশে থাকলে তাদেরও মেরে ফেলা হতো। শেখ হাসিনাকে সতর্কতার সঙ্গে চলা উচিত। শেখ আবদুল আজিজ বলেন, পঁচাত্তরের পর চার বছর ধরে কারাগারে আমাকে নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছিল। জাতীয় চার নেতার পাশের কক্ষেই ছিলাম আমি। চার নেতাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমি তাদের আহাজারি শুনতে পেয়েছি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি, তাদের সঙ্গে এখন আর দেখা হয় না। এমনকি বন্ধুবান্ধবও আসেন না। ৮৭ বছর বয়স্ক এই প্রবীণ নেতা বলেন, আমার কোমরে ও হাঁটুতে  তীব্র ব্যথা। এ ব্যথা সহ্য করা যায় না। এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। তিনি জানান, তার চলাফেরা করতে খুবই কষ্ট। সারা দিন বিছানায় শুয়ে থাকেন। কাজের লোকদের কাঁধে ভর দিয়ে বাথরুমে যাতায়াত করেন। তবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি খাবার খেতে পারেন এবং কথা বলতে পারেন। তিন মাস আগে তার স্ত্রী শওকত আরা ইন্তেকাল করেছেন। বাসায় কাজের লোকজন তার দেখাশোনা করেন। শেখ আবদুল আজিজ বলেন, তার চিকিৎসায় অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারছেন না। ২০১০ সালে অসুস্থ হয়ে গুলশানের শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে এসে এক লাখ টাকা চিকিৎসার খরচ দেন। এরপর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাকে ১০ দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow