Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৯
কাউন্সিল করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ফেরাবে : ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে এর সফলতা কামনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।

তাদের এ কাউন্সিলকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করি তাদের এ সম্মেলন সফল হবে। একই সঙ্গে এটাও প্রত্যাশা, সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে তারা ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি শুধু নয়, দেশের মানুষেরও প্রত্যাশা, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব উপযুক্ত ভূমিকা পালন করবে। ’ থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল সকালে বারিধারার থাই দূতাবাসে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করার পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপির প্রতিনিধিদল যাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা আমন্ত্রণ পাইনি। আমন্ত্রণ পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। ’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যে রকম অতীত ভূমিকা রয়েছে যে তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। আবার দুর্ভাগ্য হচ্ছে, তাদের হাতেই বারবার গণতন্ত্র আহত হয়েছে, বিঘ্নিত হয়েছে। গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। ’ বর্তমান সংকট সৃষ্টির জন্য ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘দেশে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যে সংকট তৈরি হয়েছে, এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যেহেতু আওয়ামী লীগ এখন সরকারে আছে, উদ্যোগটা তাদেরই গ্রহণ করা উচিত। দেশকে আবার গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে  দেওয়া— এই দায়িত্বটা তাদেরই পালন করা উচিত। আশা করব, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) সেই লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ’ আওয়ামী লীগের জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অনুযায়ী সম্মেলন ও কার্যক্রম করবে। বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বিএনপিকে শুধু নয়, বিরোধী দলকে কোনো গণতান্ত্রিক পরিসর বা স্পেস দেওয়া হচ্ছে না। শুধু সভা-সমাবেশের ব্যাপারেই নয়, সব ক্ষেত্রেই এখন গণতন্ত্র সঙ্কুচিত শুধু নয়, গণতন্ত্র প্রায় নির্বাসিত হয়ে গেছে। সে কারণে আমরা প্রত্যাশা করি, আওয়ামী লীগ নিজেদের জন্য যে কাজটি করছে, সেই কাজটি অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে করার সুযোগ  দেবে। ’ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশের দারিদ্র্য জয়ের প্রশংসা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে যেটুকু সাফল্য এসেছে, এটা শুরু হয়েছে দীর্ঘকাল আগে। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের আমলে যে দুর্ভিক্ষ হয়, ওই সময় অনেকে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি, পরবর্তীকালে যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি তার ১৯ দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎপাদন-উন্নয়নের যে একটা জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন, একটা ধারা সৃষ্টি করেছিলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আজ আপনারা বর্তমান বাংলাদেশকে দেখতে পারছেন। ’ তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একটা বদ্ধ অর্থনীতিকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বেসরকারি খাতকে খুলে দিয়েছিলেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা প্রাণসঞ্চার করেছিলেন। আজকে গ্রামে যে বিদ্যুৎ দেখছেন, পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড তিনিই গঠন করেছিলেন। গ্রামের অর্থনীতিকে সচল করার জন্য সব কর্মকাণ্ড নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রামের দিকে। অনুন্নত এলাকা উন্নয়নে রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী বোর্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে জিয়াউর রহমান শিল্পায়নের ব্যবস্থা করেছেন। ওইসব অঞ্চলে শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ২% রেটে সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে পরবর্তী সময়ে দেখেছি, এসব অঞ্চলে শিল্প গড়ে উঠেছিল। কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছিল। ’ গ্রামীণ অর্থনীতিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ক্ষুদ্রঋণের ধারণার প্রসঙ্গ টেনে অর্থনীতির শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মাইক্রো ক্রেডিট অর্থাৎ মাইক্রো ফাইন্যান্স, যেটা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা, এটি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। তখনই গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুঁজি নেওয়ার একটা চেষ্টা হয়েছে। এরই ফলস্বরূপ আমাদের অর্থনীতিতে একটা বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি বড় অর্থনীতিতে রূপ নিয়েছে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow