Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০
রামপাল বন্ধে মোদিকে চিঠি ভারতীয় আন্দোলনকারীদের
ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, পরে হাইকমিশনে মোদি বরাবর চিঠি হস্তান্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কলকাতা প্রতিনিধি

রাজধানীর মালিবাগে গতকাল তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে,  বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে উল্লেখ করে একই দিন নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন ভারতীয় আন্দোলনকারীরা।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিলটি গুলশানে ভারতীয়  দূতাবাসের দিকে যাত্রা করে। যাত্রাপথে মিছিলকারীরা দুই দফা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। মৌচাকের বাধা পার হলেও তারা মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে ব্যারিকেড ঠেলে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং  জলকামান থেকে পানি ও টিয়ারগ্যাস ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ জানান, সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবির পক্ষে তথ্য-উপাত্ত তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি খোলা চিঠি দিতে ভারতীয় দূতাবাস (হাইকমিশন) অভিমুখে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি মালিবাগ অতিক্রম করার সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ, পরে কমিটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সেই চিঠি ভারতীয় হাই কমিশনে জমা দিয়ে এসেছে বলে তিনি জানান। রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, মিছিলটি মৌচাকে এলে আমরা ব্যারিকেড দেই। তারা মৌচাকের ব্যারিকেড ভেঙে মালিবাগে আরেকটি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা ঢিল ছোড়ে। পরে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে জলকামান এবং পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়ে থাকতে পারে। এর আগে, গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি। বিপ্লবী ছাত্র  মৈত্রী, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র ফেডারেশন, সিপিবি-বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি অন্তত দেড় শতাধিক কর্মী-সমর্থক সমাবেশে জড়ো হন। সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি বার বার প্রত্যাখ্যান করছে। যেহেতু এই সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিচ্ছি।

রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টের বিরোধিতা করে মোদিকে চিঠি : বাংলাদেশে প্রস্তাবিত রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পের বিরোধিতা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিল ভারতের দুটি পরিবেশ সংগঠন। গতকাল অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিউপিল এবং ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্ট (এনএপিএম)-এর তরফে  যৌথভাবে চিঠি দেওয়া হলো মোদিকে। তাদের অভিযোগ এই বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হবে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন। ২০১০ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রকল্পের চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের নামে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। এ নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে পরিবেশ সংগঠনগুলো।

মোদিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে ‘ভারতের সুন্দরবনের ৪০ শতাংশ পড়ে। তাই সুন্দরবনের ক্ষতি হলে তার প্রভাব পড়বে এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ ও মৎস্যজীবীদের ওপর। তাছাড়া সুনামি ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধেও সক্ষমতা হারাবে সুন্দরবন’। এদিন দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে এনএপিএম-এর কর্মকর্তা মধুরেশ কুমার অভিযোগ করে জানান, বাংলাদেশে যেসব সংগঠনের তরফে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করা হয়েছে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের বিরোধিতা করে চলতি বছরের মার্চ মাসে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘লংমার্চ’ করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow