Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০২:৫৮
মতের স্বাধীনতা এনজিওর জন্য নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
মতের স্বাধীনতা এনজিওর জন্য নয়

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, একটা সার্বভৌম সংসদকে তো কোনো ফরেন বডি গালি দিতে পারে না। তাহলে সার্বভৌমত্ব থাকে না।

কোনো ফরেন বডির তো সেটা নেই। এনজিও ফরেন বডি। এনজিওগুলোকে কাজ করতে হলে এই আইনের অধীনে করতে হবে। জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে পাস হওয়া নতুন আইন সম্পর্কে সুরঞ্জিত সেন বলেন, গণমাধ্যমের যে অধিকার আছে, এনজিওর সেটা নেই। কারণ ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের জন্য। এনজিও এখানে অনেক ইনফিরিওয়র। এনজিও তো একটি নির্দিষ্ট আইনের অধীনে কাজ করে। এনজিও কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি বিরোধী দলের মতো কথা বলতেই হয়, তাহলে রাজনীতিতে যোগ দাও, অপজিশনে যাও। সমস্যা তো নেই। গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান বলেন, এনজিও সাধারণ আইনের দ্বারা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমকে সংবিধানের অধীনে একটা আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তোমরা (গণমাধ্যম) বলতে পার। তোমাদের মানবাধিকারের প্রটেকশন আছে। কোনো ফরেন বডির তো সেটা নেই। একজন নাগরিক মত প্রকাশ করে অনেক কথা বলবে। সেটা তার অধিকার। তিনি আরও বলেন, এটা নতুন কোনো আইন না। ’৭৮ সালে একবার পাস হয়, পরে ’৮২ সালে মার্শাল ল’ দিয়ে এটা রহিত করা হয়েছিল। সেটাকেই আমরা নতুন কিছু ধারা সংযোজন করেছি। উল্লেখ্য, গত বছর সংসদকে নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের এক বক্তব্যে তীব্র অসন্তোষ জানানোর পর সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন ওই আইনে বিদ্বেষমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য নিবন্ধন বাতিলের ধারাটি যুক্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তথ্য প্রচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমার ক্যান্সার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এমজিএ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি ‘মায়েলোডিস প্লাস্টিক সিনড্রোম’ নামক একটি ব্যাধিতে ভুগছেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসারত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম হওয়ায় বোন ম্যারো পরীক্ষার জন্য আগামী নভেম্বর মাসে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটা ক্যান্সারে টার্ন নেওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমার রোগের লক্ষণ হচ্ছে, রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের মাত্রা কমে গেছে। এ জন্য মাঝে মাঝে আমাকে রক্ত নিতে হয়। এটা কোনোক্রমেই লিউকেমিয়া বা ব্লাডক্যান্সার নয়। তিনি বলেন, রোগ-শোকে মানুষ এবং এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ বিশেষ মতলববাজি করবে সেটা কাম্য হতে পারে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow