Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০
সর্বশেষ জনমত জরিপ
শেষ বিতর্কের মহাপ্রস্তুতি
প্রতিদিন ডেস্ক
শেষ বিতর্কের মহাপ্রস্তুতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাকুল্যে আর বাকি ১৯ দিন। এর মধ্যে আজ বাংলাদেশ সময় সকালেই নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের শেষ মুখোমুখি বিতর্ক শেষ করেছেন। কিন্তু এই বিতর্কের আগে আমেরিকা থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল কে এই বিতর্কে জয়ী হবেন। এর আগের দুটি বিতর্কেই জয়ী হয়েছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। গত কয়েকদিনের সব জনমত জরিপে তর তর করে এগিয়ে গেছেন  হিলারি। নিশ্চিত পতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আজই শেষ সুযোগ ছিল ট্রাম্পের। কারণ নারী ও যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে পর্যুদস্ত ট্রাম্প। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ এই বিতর্ক। কিন্তু ওই বিতর্কের শেষ পর্বে কি বলেছেন দুই প্রার্থী। তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। প্রথম ও দ্বিতীয় বিতর্কে তারা দুজন দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ চর্চা করেছেন। এ নিয়ে সমালোচনাও বিস্তর। তৃতীয় এই বিতর্কের ভেন্যু লাস ভেগাসে ইউনিভার্সিটি অব নেভাদায়। বিতর্কের সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ফক্স নিউজের সাংবাদিক ক্রিস ওয়ালেসের। ৯০ মিনিটের বিতর্কের পুরোটাই সরাসরি সম্প্রচার করার কথা সিএনএন টেলিভিশনের। এ ছাড়া সিএনএন ডট কম অনলাইনেও পাওয়া যাবে সরাসরি সম্প্রচার। এ ছাড়া সিএনএন পলিটিক্স অনুষ্ঠানে তাত্ক্ষণিক বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হবে। এরপর দুই প্রার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হবে সত্যতা যাচাই। সিএনএন-এর রিয়েলিটি চেক টিম করবে ফ্যাক্ট চেক বা সত্যতা যাচাই। সঞ্চালক ওয়ালেস আগেই বিতর্কের বিষয় ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে থাকছে ঋণ প্রসঙ্গ, অভিবাসন, অর্থনীতি, সুপ্রিমকোর্ট, বিদেশি হট স্পট, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সুস্থতা ও যোগ্যতা।

অযথা ঘ্যান ঘ্যান বন্ধ করুন : ট্রাম্পকে ওবামা : ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে চূড়ান্ত কারচুপি হবে এবং তা হবে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘আমি জীবনেও দেখিনি কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভোট হওয়ার আগেই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এটা নজিরবিহীন। এরকম অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

 ওবামা বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রতি আমার পরামর্শ, এমন অযথা ঘ্যান ঘ্যান বন্ধ করুন এবং কীভাবে কিছু ভোট পাওয়া যায় তার চেষ্টা করুন।’ ইতালির প্রেসিডেন্ট মাত্তিও রেনজি এখন আমেরিকা ভ্রমণ করছেন।

তাকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। প্রেসিডেন্ট ওবামা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুতিন-প্রীতিরও কড়া সমালোচনা করেন ওই সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, আমেরিকার রাজনীতিতে বহু বছর ধরেই যেখানে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক স্পর্শকাতর একটি ব্যাপার সেখানে এক রেডিও অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্প বলে এসেছেন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে জিতলে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি রাশিয়া গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে আসবেন। কিন্তু বারাক ওবামা বলেন, ট্রাম্প রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্তুতি করা অব্যাহত রেখেছেন। সেই সঙ্গে মনে হচ্ছে তিনি তার নীতি ও কৌশলও সাজাচ্ছেন অনেকখানি পুতিনের ওপর ভিত্তি করেই।

মৃতদের ভোটে জিতবে হিলারি : জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে পেছাতে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন অনেকটা দিশাহারা। এ অবস্থায় উদ্ভট সব মন্তব্য আর অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করলেন মৃত আমেরিকান আর অবৈধ অভিবাসীদের। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে বারাক ওবামা ১৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন এবং সেটি ঘটেছিল অবৈধ অভিবাসীরা ভোট দেওয়ায়। গত সোমবার রাতে উইসকনসিনে এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প এ অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তবে এবারের নির্বাচনে আমি জয়ী হব অবৈধদের ভোট ছাড়াই। অবৈধ অভিবাসীর ভোট আমি চাই না।’ উল্লেখ্য, সিটিজেনরাই কেবলমাত্র ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেন। ভোট কেন্দ্রেও ভোটারের আইডি পরীক্ষা করা হয় ব্যালট প্রদানের আগে। অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসী দূরের কথা, যাদের গ্রিনকার্ড রয়েছে তারাও ভোট দিতে পারেন না অর্থাৎ ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

গ্রিন বে সিটিতে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘১৮ লাখ ভোটারের হদিস উদঘাটিত হয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছেন অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিরাও রয়েছেন ভোটার তালিকায়। তবে আমি মৃতদের ভোটে জয়ী হতে চাই না।’ তবে, ২০১২ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত গবেষণায় ভোটার তালিকায় ১৮ লাখ মৃত ব্যক্তির নাম জানা যায়। সেই তালিকা এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন ট্রাম্প। যদিও সে ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow