Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
নোংরামির শেষ নেই মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায়
ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। প্রচারণার শেষ দিকে এসে প্রার্থীরা ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা চরম নোংরামির পর্যায়ে চলে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেক্স টেপ প্রকাশ করার পর বিতর্কে ট্রাম্প নিজকে নিষ্কলুষ বলে দাবি করেন। কিন্তু তার পরপরই বেশ কয়েকজন নারী দাবি করলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সুযোগ পেয়ে তাদের জাপটে ধরেছেন, শরীরের সর্বত্র হাত দিয়েছেন, ঠোঁটে চুমু খেয়েছেন তাদের অনুমতি ছাড়াই। শুক্রবারই চারজন নারী তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এনেছেন। এদিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হিলারির বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে বলেছেন, জিতে গেলে তিনি হিলারিকে দেখে নেবেন, তাকে জেলে ঢোকাবেন। ট্রাম্প হিলারির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন। রবিবার উত্তরের মেইন রাজ্যে এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প বলেন, সরকার ও মিডিয়া কেউ সঠিক অবস্থানে নেই। উইকিলিকস হিলারির অপকর্মের যে তথ্য দিয়েছে, তাতে তার জেলে থাকার কথা। মিডিয়াও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলছে না, অথচ ট্রাম্প ২০ বা ৩৫ বছর আগে কী করেছেন তা নিয়ে কথা বলছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে পিছিয়ে পড়ছেন ট্রাম্প। নতুন নতুন বিতর্কে জড়াচ্ছেন। রবিবার সন্ধ্যায় দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফা ৯০ মিনিটের মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেন। এখানেও হিলারির কাছে ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন। জরিপের পর দেখা গেছে, ভোটারদের ৫৭ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন হিলারি। ট্রাম্প পেয়েছেন ৩৪ শতাংশের সমর্থন। তবে এ বিতর্কে ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণ, কদর্য ভাষার ব্যবহার ও অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। অশ্লীলতার চরম প্রকাশের আরও অনেক বাকি আছে বলে মনে করেন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড রিচমন্ড জার্জেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে নিকৃষ্টতম প্রচারণার দিন আরও সামনে আসছে। ট্রাম্প তার সমর্থন ধরে রাখতে আরও বেপরোয়া হতে পারেন। রিচার্ড নিক্সন, জেরাল্ড ফোর্ড, রোনাল্ড রিগ্যান ও বিল ক্লিনটন এই চার প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন ডেভিড রিচমন্ড। হিলারি ক্লিনটন ও ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা বিতর্কেও সমালোচনাই হচ্ছে বেশি। বিতর্কে হিলারির সাবেক স্বামী বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারির কথা উত্থাপন করেন ট্রাম্প। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এক অন্ধকার রাতের সাক্ষী হলেন। এমন প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। ৯০ মিনিটের বিতর্কে ট্রাম্প ও হিলারি দুজনই ব্যক্তিগত ইস্যু বেশি টেনেছেন। সিএনএন এ বিতর্ককে বলেছে ‘নোংরা যুদ্ধ’। এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের সেক্স টেপের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে নতুন অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দুজন নারী জানান, ট্রাম্প তাদের সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেছেন। ফ্লোরিডার পামবিচ পোস্ট অন্য এক নারীর বরাতে একই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। ৭০ বছর বয়সী এক নারী নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ৩০ বছর আগে বিমানের পাশের আসনে বসা ট্রাম্প তার পোশাকের নিচে হাত দিয়ে তাকে নিপীড়নের চেষ্টা করেছেন। রেচেল ক্রুকস নামের এক নারী নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ২০০৫ সালে যখন তার বয়স ২২ তখন ট্রাম্প তাকে জোর করে মুখে চুমু খান। তখন তিনি ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে একটি কোম্পানির রিসিপশনিস্ট ছিলেন। লিফটের বাইরে তার সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হয়। তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে হাত মেলান। কিন্তু ট্রাম্প জোর করে চুমু খেতে শুরু করেন। পিপল ম্যাগাজিন জানায়, ২০০৫ সালে তাদের রিপোর্টার নাতাশা স্টয়নফের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিয়ের এক বছর পূর্তিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন নাতাশা। এখানেই শেষ নয়, এ ধরনের বহু অভিযোগ আছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। প্রতিনিয়ত এসব অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে। তিনি কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এর পেছনে হিলারি, তার প্রচারদল ও সমর্থক মিডিয়া গোষ্ঠী জড়িত। পেনসিলভেনিয়ায় এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প এই হুমকি দেন, নতুন কোনো টেপ ছাড়া হলে তিনি বিল ক্লিনটনের কেলেঙ্কারি খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করবেন। এদিকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জন্য হুমকি হতে পারেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার শুরু থেকে ট্রাম্প সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করে আসছেন। ’ সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বেকায়দায় আছেন ট্রাম্প। দেশব্যাপী নারী ভোটারদের মধ্যে জরিপে ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোট নিয়ে ৮ নভেম্বর নির্বাচনে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ সবকিছইু নির্বাচনী ফলাফলে একটা বিরাট প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

up-arrow