Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১২
কেন্দ্র ও তৃণমূলে পরিবর্তন আসবে
—শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করে। ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে এবারের জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে তারই প্রতিফলন থাকবে।

আমাদের ওয়াদা পূরণের মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-মান উন্নীত হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিপূর্বের কাউন্সিলের ঘোষণাপত্রও বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। এবার আরও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বর্তমান মেয়াদের শেষ বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা একটি দলের কর্তব্য। আমরা দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করি। এই চিন্তা-চেতনা থেকেই আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যা বাড়ায় দলের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রে ও তৃণমূলে কমিটির আকার বাড়ানোসহ কিছু পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। সম্মেলন নিয়ে সারা দেশে সাড়া পড়েছে। কারণ জনগণ জানে, একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। আজকে দারিদ্র্য দূর হয়েছে আওয়ামী লীগের গৃহীত নীতির কারণে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। গ্রামেও এ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা ইশতেহার ভুলে যায় না। প্রতি বাজেটের আগে ইশতেহার সব মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। নির্বাচনী ইশতেহার পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করি। আমরা যে ওয়াদা করি তা রক্ষা করি। মানুষ তার সুফল পায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে নেওয়া ১৯৯৬ সালের পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ২০০৯ সালের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং ২০১৪ সালের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জঙ্গিদের যারা প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়, সমর্থন করে তাদেরও বিচার হবে। জঙ্গি দমন প্রক্রিয়ায় বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ   হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী যেভাবে জঙ্গি দমন করা হচ্ছে এ দেশেও সেভাবেই হচ্ছে। এ নিয়ে কে কী বলল, সেটা বড় কথা নয়।

সাড়ে ৬ হাজার কাউন্সিলরের তালিকা অনুমোদন : রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ৬ হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলরের তালিকা অনুমোদন দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। একই পরিমাণ ডেলিগেট রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কার্যনিবাহী সংসদ। এদিকে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিকী ববি ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম কাউন্সিলর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ববি ইউএনডিপি ও পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থায় চাকরি করার কারণে তারা নিজেরাই প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তা প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে তার নাম গোপালগঞ্জ জেলা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তালিকা থেকে নাম কেটে দেন। একইভাবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও অন্য কোনো জায়গা থেকে নাম পাঠানো হলে তা কেটে দিয়ে তৃণমূল নেতাদের কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে এ আহ্বান জানান। একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় দলটির গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সভাটি মূলতবি করা হয়েছে। ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত মূলতবি সভাটি যে কোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারবে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুর দিকেই ৭৮ সাংগঠনিক জেলা থেকে কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো কাউন্সিলর তালিকা পর্যায়ক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্মেলনে সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর থাকবেন। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা সবাই পদাধিকার বলে কাউন্সিলর হবেন। সূত্রগুলো জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পরিসর বাড়িয়ে ৮১ সদস্য করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-পরিষদ উত্থাপিত খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার সংবলিত খসড়া ঘোষণাপত্রও অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। আসছে সম্মেলনে এগুলো পাস হবে।

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে অভ্যর্থনা উপ-পরিষদের নেতারা জানান, সম্মেলনে এখন পর্যন্ত ১২টি দেশের ৫২ জন অতিথি উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫ জন অতিথি সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার দেশে এসেছেন রাশিয়া, কানাডা ও অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিরা।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈঠকে জানান, কাউন্সিলের জন্য নির্বাচন কমিশন আজ ঠিক করা হবে। এ সময়ে নির্বাচন কমিশনে ড. মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন ও রাশিদুল আলমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বৈঠক মূলতবি করে কেন্দ্রীয় কমিটির সব নেতাকে সবসময় তৈরি থাকতে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘যখন ডাকব তখনই যেন আসতে পারেন। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow