Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১২
অধ্যাপক মোজাফফরের চোখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল
বাদল নূর
অধ্যাপক মোজাফফরের চোখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আশা করেন, আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দলেরই প্রতিফলন ঘটবে। তিনি বলেন, ‘আমি মুজিব আদর্শের আওয়ামী লীগ দেখতে চাই। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজগার্ডেনে এই দলের জন্ম আমি দেখেছি। সেদিন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল অনাড়ম্বর।

 শুনেছি এবার যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে তাতে ডেলিগেট ও অতিথি থাকবেন ৫০ হাজার। তাদের তিন বেলার খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাচ্চি বিরানি আর মোরগ পোলাও। এত খরচের কী দরকার!’ অধ্যাপক মোজাফফর রাজধানীর বারিধারায় তার বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, এই আওয়ামী লীগ শেখ মুজিব বা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শের আওয়ামী লীগ নয়। তিনি বলেন, মুজিব নীতি-আদর্শের রাজনীতি করতেন। মওলানা ভাসানী ছেঁড়া লুঙ্গি ও ছেঁড়া পাজামা পরে রাজনীতি করতেন। শেখ মুজিব একবেলা খেয়ে না-খেয়ে রাজনীতি করেছেন। তার স্ত্রী ফজিলাতুন নেছার দুটি কাপড়ের বেশি ছিল না। এখনকার আওয়ামী লীগ সেই স্বভাবের নয়। এই আওয়ামী লীগ অস্বাভাবিক। তাদের কাউন্সিলে কী কারণে এত টাকা খরচ করতে হবে বুঝি না। মুজিবের আওয়ামী লীগের এই পরিণতি ভাবা যায় না। ৯০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বলেন, আমায় যদি কেউ বলে, তাহলে এদের সঙ্গে আছেন কেন? আমি বলব, মন্দের ভালো তাই আছি। আমি তো রাজাকারদের সঙ্গে যেতে পারি না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নেতারা সৎ হলে ৫০ শতাংশ দুর্নীতি কমে যাবে। মাছের পচন ধরে মাথায়, আর দেশের পচন ধরে নেতায়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু শিক্ষিত লোক আছেন তারাও দলের এসব শান-শওকতের কাজে উৎসাহ দেন। শিক্ষিত এই বুদ্ধিমানরা আওয়ামী লীগকে কোনদিকে নিয়ে যেতে চাইছেন! অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, মুজিব আমার বন্ধু। তিনি জনকল্যাণের কথা মাথায় রেখেই রাজনীতি করে গেছেন। তিনি বলতেন, ‘তোমরা পারবে না, জনগণের ভাগ্য আমাকেই বদলাতে হবে। তাই আমাকে ক্ষমতায় যেতে হবে।’ বলতেন, ‘তুমি তোমার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাও। আমি আমার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী, ভাসানী আর সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য আমি। আমি ষড়যন্ত্র চক্রান্তের রাজনীতি করি না। আমি যেন আদর্শচ্যুত না হয়ে মরতে পারি মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সেই প্রার্থনাই করি। আমি ষড়যন্ত্র বুঝি, কিন্তু করি না। তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অপরীক্ষিত সৎ পাওয়া যাবে, কিন্তু পরীক্ষিত সৎ পাওয়া যাবে না। কেউ কেউ সুযোগের অভাবে সৎ হয়। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেন, বিজ্ঞান বলে সমাজ পরিবর্তনশীল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পথে শোষণমুক্ত সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র, যুবক তরুণরা, এগিয়ে চলো তোমাদের সঙ্গে আছি আমরা। অসুস্থতার কারণে তিনি আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে জীবনযাপন করতে হয়। কোমরে ব্যথা,  দিন-রাত বিছানায় শুয়ে থাকেন। তারপরও দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন। প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন। তার স্মৃতিশক্তি এখনো প্রখর। অধ্যাপক মোজাফফর একমাত্র কন্যাসন্তানের জনক। তার স্ত্রী আমিনা আহমদ জাতীয় সংসদ সদস্য। বর্তমানে তিনিই ন্যাপের হাল ধরেছেন। ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার এলাহাবাদ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফরের জন্ম।

up-arrow