Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৪
ওয়ান সিটি টু টাউন হবে চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়ান সিটি টু টাউন হবে চট্টগ্রাম

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে দুই লেন বিশিষ্ট দুটি টিউবের মাধ্যমে চার লেনের টানেল নির্মিত হবে। এ টানেল নির্মিত হলে চট্টগ্রাম হবে সাংহাইয়ের মতো ওয়ান সিটি টু টাউন।

গতকাল সেতু ভবনে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণকাজের তদারকি এবং ডিজাইন রিভিউর লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগসহ টানেলটি যুক্ত করবে প্রস্তাবিত মিরসরাই-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, প্রস্তাবিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পকে। তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল বাংলাদেশের প্রথম টানেল হওয়ায় সরকার অত্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে নির্মাণ তদারকি এবং কারিগরি বিষয়গুলো দেখছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, গণচীনের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন বিশিষ্ট কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নদীর ওপাড়ে চীনের সহায়তায় নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন ইপিজেডকে সংযুক্ত করবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, সম্প্রসারিত হবে নগরায়ণ। বদলে যাবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনজীবনের চালচিত্র। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মহাসড়কে উত্তরণে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, চট্টগ্রামের বহুল প্রতীক্ষিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরমধ্যে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চীনের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তলদেশের এই টানেলটি হবে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। এই টানেলের নকশা রিভিউ ও নির্মাণকাজ তদারকির জন্য দেশি-বিদেশি মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। মূল পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ডেনমার্কের সিওডব্লিউআই। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে ওভিই-এআরইউপি অ্যান্ড পার্টনার হংকং লিমিটেড এবং বাংলাদেশের তিন প্রতিষ্ঠান এসিই কনসালটেন্ট লিমিটেড, ভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট লিমিটেড ও স্ট্র্যাটেজিক কনসালটিং কোম্পানি লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু বিভাগ ২৯১ কোটি টাকার একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির পাঁচ বছর বা মেয়াদ ৬০ মাস। বাংলাদেশের পক্ষে সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ আর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এসএমইসির কারিগরি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রধান গ্যাভিন হেরল্ড স্ট্রিড চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবিরসহ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow