Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০৩:০৮
রামপাল নিয়ে ইউনেস্কো
সুন্দরবনের চার ক্ষতির আশঙ্কা
প্রতিদিন ডেস্ক

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে চার ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে ইউনেস্কো। সংস্থাটি বলছে, এ কারণে এই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখা উচিত এবং এটি এমন কোনো জায়গায় সরিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি না হয়। খবর বিবিসি বাংলার।

তিরিশ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ এই রিপোর্টটি ইউনেস্কো প্রকাশ করেছে গত মঙ্গলবার। এতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের মূলত চার    ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে কয়লা পুড়িয়ে, সে কারণে এই কয়লার নির্গত ছাই সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য এক নম্বর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্য এবং পানিকে দ্বিতীয় হুমকি হিসেবে গণ্য করছে ইউনেস্কো। আশঙ্কায় আরও বলা হয়, এ প্রকল্পকে ঘিরে সুন্দরবন এলাকায় যেভাবে জাহাজ চলাচল বাড়বে এবং ড্রেজিং করার দরকার হবে, সেটিও সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই সঙ্গে বিদ্যুকেন্দ্রকে ঘিরে ওই অঞ্চলের সার্বিক শিল্পায়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও সুন্দরবনের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার এবং ইন্টারন্যাশনাল কনজার্ভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন)-এর তিনজন বিশেষজ্ঞ সরেজমিন ঘুরে দেখে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন। এতে আরও বলা হয়েছে, যেখানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, সেটি সুন্দরবনের সীমানা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের (ইআইএ) জন্য আইইউসিএন যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা ঠিকমতো মেনে চলা হয়নি। এ ছাড়া সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতি এড়াতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ধরনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং যেরকম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা উচিত, সেটাও করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এরকম একটি প্রকল্প বাংলাদেশে সুন্দরবনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে। আইইউসিএন বলেছে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। এদিকে ইউনেস্কোর এই রিপোর্ট এবং আহ্বানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে গতকাল কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow