Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৮
আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাবে বিএনপি
সোহরাওয়ার্দীতে সভা করতে চান ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাবে বিএনপি

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাবে বিএনপি। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপিকে সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়ার পর দলের এক যৌথ সভা শেষে এমন ইঙ্গিত দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি করে এবং বিশ্বাস করে। আমন্ত্রণ পেয়েছি। কীভাবে অংশগ্রহণ করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি কোনো বাধা-বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আগামী ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার দাবি জানান।

বেলা সাড়ে ১২টায় এ সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেমন কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন করছে, ঠিক তেমনিভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বিএনপিও জনসভা করতে চায়। আশা করি বিএনপিকে ন্যূনতম এই অধিকারটুকু দেওয়া হবে।’ একই সময় তিনি আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল জানান, ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ৭ নভেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে সকাল ৭টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে। সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ ছাড়া বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ কিংবা ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

পরে দলের যৌথ সভা শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতির মূল সংকটটাই এখনো ধরতে পারছে না। মূল সংকট হলো জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ যে পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে আসছে, এভাবে কোনো দিনই জনগণের সঠিক প্রতিনিধিরা প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে না। সেটা কখনই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে না। যৌথ সভায় দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা অংশ নেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদেরকে (বিএনপি) আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুশি হতাম, যদি তারা বিএনপির সম্মেলনে আসতেন এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পরিবর্তনের নতুন ধারার শুভ সূচনা করতেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা শুধু আসেনই নাই, বিভিন্নভাবে বিএনপির কাউন্সিলে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করেছেন।’

সম্মেলনে আমন্ত্রণ : এদিকে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয়। এ সময় মৃণাল কান্তি দাসের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক রিয়াজুল কবির কাওসার, হাসান কবির আরিফ ও আনিসুর রহমান।

 

পরে মৃণাল কান্তি দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন। তারা সম্মেলনে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।’ এর আগে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের দলীয় কার্যালয়ে স্বাগত জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিবের কক্ষে গিয়ে তার হাতে দলের চেয়ারপারসন ও মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow