Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩২
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদক ঘুমিয়ে আছেন টাঙ্গাইলে
মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদক ঘুমিয়ে আছেন টাঙ্গাইলে
হামিদ খান ভাসানী - শামসুল হক

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চিরনিদ্রায় টাঙ্গাইলের মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন। দীর্ঘদিনেও আওয়ামী লীগের এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদকের খোঁজ কেউ রাখেনি।

আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এবারের সম্মেলন সফল করতে বর্ণিল আয়োজন করা হয়েছে। নতুন সাজে সাজছে শুধু রাজধানী ঢাকা শহর নয়, সারা দেশেই করা হচ্ছে আলোকসজ্জা। নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা  যোগ দেবেন। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার মানুষ খাবে মোরগ-পোলাও। কিন্তু এই সম্মেলনে নেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদকের কোনো ছেলে সন্তান এমন কি কোনো আত্মীয়স্বজন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। পরবর্তীকালে ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ করা হয়।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তিনি ১৯৪৭ এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে মজলুম জননেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে মওলানা ভাসানী ছিলেন অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় মাওপন্থি কমিউনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকেই এ জন্য তাকে লাল মওলানা নামেও ডাকতেন। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানকে পশ্চিমা শাসকদের ‘ওয়ালাইকুমুসসালাম’ বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ১৯১৮ সালে ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। আর ১৯৬৫ সালের দিকে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা যায়নি। শামসুল হক একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ যার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বিভাগ-পূর্ব ভারতবর্ষে এবং যিনি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের পূর্বসূরি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি পাকিস্তানের গণপরিষদের সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৫০ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম এবং তৃতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের সরকারবিরোধী রাজনীতিতে তিনি ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তার জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে কারামুক্তির পর ঘরোয়া ষড়যন্ত্রের পরিণতিতে আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কার করে। যার ফলশ্রুতিতে তিনি চিরকালের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি, নিখোঁজ হওয়া এবং অকাল মৃত্যুর রহস্য দীর্ঘকাল ধরে উন্মোচিত হয়নি। ১৯৬৪ সালে শামসুল হক হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন এবং ১৯৬৫ সালে ইন্তেকাল করেন। শামসুল হক গবেষণা পরিষদ অনেক খুঁজে মৃত্যুর ৪২ বছর পর ২০০৭ সালে কালিহাতি উপজেলার কদিম হামজানিতে মরহুমের কবর আবিষ্কার করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের জানান, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে টাঙ্গাইল জেলা থেকে অন্তত ১০ হাজার নেতা-কর্মী যোগদানের উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক জেলা থেকে ১৫৭ জন কাউন্সিলর ও দুই শতাধিক ডেলিগেট সম্মেলনে যোগদান করছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow