Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৫
সম্মেলনে ভুলভ্রান্তি পর্যালোচনা হোক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্মেলনে ভুলভ্রান্তি পর্যালোচনা হোক
সৈয়দ আবুল মকসুদ

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো গণতান্ত্রিক দল।

সরকার পরিচালনায় তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতে সামরিক স্বৈরশাসকের সময় এই দলের নেতারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। নির্যাতন ভোগ করেন। তাই আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্রকামী মানুষের  প্রত্যাশা হলো— সাম্প্রতিক সময়ের ভুলভ্রান্তি পর্যালোচনা করে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সঠিক ভূমিকা পালন করবে। এ কাউন্সিল আওয়ামী লীগ নেতাদের সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ’ শনি ও রবিবার অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে এ মন্তব্য করেন বিশিষ্ট এই কলামিস্ট। তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থেকে কাউন্সিল করে তখন সেই কাউন্সিল অপেক্ষাকৃত বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হয়। সেটাই স্বাভাবিক ও বাস্তব। আওয়ামী লীগ এবার যে জাতীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে তা জাঁকজমকের দিক থেকে অতীতের যে কোনো কাউন্সিলের চেয়ে শুধু বড়ই নয়, আয়োজনের দিক থেকে আড়ম্বড়পূর্ণ ও বিশাল। তবে জাতীয় জীবনে একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা জাঁকজমক দিয়ে বিচার্য নয়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সম্মেলনে কী নীতিমালা গৃহীত হলো তার ওপর নির্ভর করে সেই কাউন্সিলের গুরুত্ব। ’ প্রবীণ এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য বাসে কত ডেলিগেট এলেন এবং খানাপিনা করে চলে গেলেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাউন্সিলে কী কী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করার সুযোগ পেলেন, সেটাই বিবেচ্য। আজ বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে প্রচলিত সংস্কৃতি তার অভাব রয়েছে। এজন্য শুধু বড় দল আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে দায়ী করা যায় না। সব রাজনৈতিক দলই কমবেশি দায়ী। দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে আসার পেছনে সব দলেরই কমবেশি ভূমিকা রয়েছে। সরকার চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে। এগুলো আইনের শাসনের সঙ্গে মিলবে না। দেশে গণতন্ত্র থাকবে, উন্নয়নও হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা থাকবে— সেটাই কাম্য। এগুলোর একটি বাদ দিয়ে আরেকটি গ্রহণযোগ্য নয়। ’ তিনি বলেন, ‘সাবলীল নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে ক্ষমতায় নিয়েছেন এবং সংগঠিত রেখেছেন। এক যুগের বেশি সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিচের দিকের বহু নেতাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। এই সম্মেলনে সেসব নির্ভরযোগ্য নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিলে দল শক্তিশালী হবে বলে আমার বিশ্বাস। অকর্মণ্য ও সুবিধাবাদীদের বাদ দেওয়া ভালো। এক নাগাড়ে অনেক দিন ক্ষমতায় থাকায় দলে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। সত্যিকারের ত্যাগী নেতাদের যদি দলের উপযুক্ত স্থানে না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যদি কখনো দল ক্ষমতায় না থাকে তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ’ সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব এলেই যে দল শক্তিশালী হবে তার নিশ্চয়তা নেই। শেখ হাসিনাকে প্রধান রেখে অন্যান্য পদে রদবদল করে কমিটি গঠন করলে আশা করা যায়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে আওয়ামী লীগ। তা না হলে একটি বৃত্তের মধ্যেই দল পড়ে থাকবে। তাতে দলের কিছু মানুষের উপকার হবে। দেশের মানুষের ভালো হবে না। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow