Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৮
তবুও এগিয়ে বাংলাদেশ
মেজবাহ্-উল-হক, চট্টগ্রাম থেকে
তবুও এগিয়ে বাংলাদেশ

শেষ তিন ওভারের খেলা হলো ফ্লাড লাইটে। টেস্টের নতুন নিয়ম, আম্পায়াররা চাইলে খেলতে বাধ্য ক্রিকেটাররা। আর এই নতুন নিয়মে যেন বড় ক্ষতিই হয়ে গেল বাংলাদেশের। শেষ তিন ওভারের মধ্যেই যে হারাতে হয়েছে মুশফিকের মহামূল্যবান উইকেটটি। তা না হলে আজ চালকের আসনেই থাকতেন টাইগাররা। তারপরও দ্বিতীয় দিন শেষে কিছুটা এগিয়েই রয়েছেন মুশফিকরা। বাংলাদেশের স্কোর ২২১/৫। ইংলিশদের চেয়ে ৭২ রানে পিছিয়ে। তবে স্পিনারদের স্বর্গে দিন শেষে এই স্কোরটা স্বাস্থ্যবানই বটে! এখনো বাংলাদেশের হাতে রয়েছে পাঁচ উইকেট। ২২ গজে নটআউট রয়েছেন সাকিব, ড্রেসিংরুমে অপেক্ষমাণ সাব্বির ও মিরাজ। তাই লিডের কথাই ভাবছেন তামিম, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা লিড নিতে পারব। কিছুটা হলেও আমরা এগিয়ে।’ সকালে ইংল্যান্ডকে ২৯৩ রানে আটকে দেওয়ার পর শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা! ভয়ঙ্কর টার্ন, অস্বাভাবিক বাউন্স, বল কখনোবা  হঠাৎ নীচু হয়ে যাচ্ছে, এমন উইকেটে প্রতি মুহূর্তেই ছিল আতঙ্ক। দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথে সাবধানে সাহসের সঙ্গেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ধৈর্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা দিতে হয়েছে তামিম ইকবালকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যার স্ট্রাইকরেট ছিল ৮৫.৫৯ গতকাল সেই তামিমের ৪৩.৫৭ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করলেন। ১৭৯ বল খেলে করলেন ৭৮ রান। ছক্কা তো নেই-ই, বাউন্ডারিও মাত্র সাতটি। উইকেটে টিকে থাকাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কিছুটা বোকামির পরিচয়ও দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তা না হলে দিনের তিন সেশনের শেষ মুহূর্তে কেন উইকেট হারাতে হবে!

মধ্যাহ্ন বিরতের ঠিক আগের ওভারেই মঈন আলীর এক ওভারে দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক আউট। দ্বিতীয় সেশনের শেষ ওভারে মাহমুদুল্লাহ ফিরে গেছেন। তারপর শেষ বিকালে মুশফিক। আরেকটু সতর্ক হলে হয়তো গতরাতের ঘুমটাও হারাম হয়ে যেত ইংলিশদের। তারপরও দ্বিতীয় দিনের পারফরম্যান্সে ইংলিশদের স্বস্তি পাওয়ার কথা নয়। কেননা গতকাল দিনের শুরুটাই হয়েছিল বাংলাদেশের সফলতা দিয়ে। আগের দিন ৭ উইকেটে ২৫৮ রান করা ইংল্যান্ড প্রথম বলেই হারায় উইকেট। অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেট প্রাপ্তিতে প্রথম দিনটা রোমাঞ্চকরভাবে কাটলেও অপ্রাপ্তি ছিল সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার তাইজুলের। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা তাইজুলের বল ঠিকমতো খেলতেই পারেননি। তারপরও ১৭ ওভার বোলিং করেও ছিলেন উইকেটশূন্য। বিষয়টা হয়তো ভাগ্য-বিধাতার কাছে বেমানান লাগছিল, সে কারণেই কিনা গতকাল তাইজুলের সেরা ডেলিভারিটা বেরিয়ে আসে দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই। ওয়াকস আউট। তারপরও গতকাল ১৩.৫ ওভারে আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে আরও ৩৫ রান যোগ করে শেষ দুই জুটি। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা আদিল রশিদও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন। সে অবশ্য অস্বাভাবিক বিষয়ও ছিল না। কেননা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যার ১০টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে, গড় রান যার ৩৪.৬৮ তাকে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান তকমা না দিয়ে উপায় আছে। সেই রশিদকেও বিদায় করে দেন তাইজুল। তবে এই উইকেটে তাইজুলের চেয়ে বড় অবদান ফিল্ডার সাব্বির রহমানের। শট কাভারে লাফিয়ে পড়ে অসাধারণ এক ক্যাচ ধরে কাল সাব্বির যেন তাইজুলকে উইকেট উপহার দিলেন। সেই সঙ্গে আগের দিন স্লিপে ক্যাচ মিসের প্রায়শ্চিত্ত করলেন বাংলাদেশের সেরা এই ফিল্ডার। শেষ উইকেটটি যথারীতি মিরাজের। স্টুয়ার্ট ব্রডকে আউট করে অভিষেকে ষষ্ঠ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ড করলেন এই টিনএজার অলরাউন্ডার। তবে আর মাত্র সাত রান কম দিলেই অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের কৃতিত্ব পেয়ে যেতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে ৭৪ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেওয়ায় এখনো সোহাগ গাজীই সেরা। তবে ৮০ দিয়ে দ্বিতীয় সেরা মিরাজ। ইংল্যান্ডকে কাল ২৯৩ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের বিরুদ্ধে টেস্টে এটিই ইংলিশদের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ২৯৫, সেটি ১৩ বছর আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তবে কাল ইংল্যান্ডকে আরেকটি লজ্জা দিয়েছেন মুশফিকরা। ১৯৮৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে কেবল স্পিনার দিয়ে অলআউট করে দিয়েছেন। মুশফিক নিজেও উইকেটের পেছনে ৮৮টি ডিশমিসড করে খালেদ মাসুদকে টপকে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু রেকর্ডে শুরু হওয়া দিনে মাঠ ছাড়তে হয় আক্ষেপ নিয়ে। মুশফিক শেষ মুহূর্তে ৪৮ রানে আউট না হলে যে ম্যাচের চিত্রটাই অন্যরকম থাকত!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow