Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৯

বিদায় সৈয়দ আশরাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায় সৈয়দ আশরাফ

টানা দুইবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

গতকাল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন শেষে নতুন কমিটিতে সৈয়দ আশরাফকে দলের সভাপতিমণ্ডলীতে রাখা হয়।

গতকাল বিকালে সম্মেলনের দ্বিতীয়পর্বে নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফের ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আশরাফ আমার আপন ভাইয়ের মতো। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে মনপ্রাণ দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে ভালোবেসেছেন, দলের জন্য কাজ করেছেন। আজ তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেছেন। সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার আগে শেখ হাসিনা আশরাফকে জড়িয়ে ধরেন। সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি এক-এগারোর সময়ে দলের কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন। দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলীয় সভানেত্রী মুক্তি আন্দোলন ত্বরান্বিত করে তাকে কারামুক্ত করেন এবং সেনাসমর্থিত সরকারের কাছ থেকে জাতীয় নির্বাচন আদায় করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ টানা দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধকালে সংকটময় মুহূর্তে যখন দলের সব নেতা নীরব ভূমিকায় ছিলেন তখন তিনি সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতকে ঢাকা ছাড়ার সময় বেঁধে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তার হুমকিতে মানসিকভাবে পর্যুদস্ত হেফাজতকে পরে জোর করে ঢাকা থেকে বিতাড়ণ করা হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে কূটনীতিক দূতিয়ালীতে তিনি সফলতার পরিচয় দেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে টানা দুবার ক্ষমতাসীন হয়। সৈয়দ আশরাফ একজন ভদ্রলোক, দেশপ্রেমিক ও সৎ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ক্ষমতা দেখানো বা কারও সঙ্গে তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগ নেই। তিনি নীরবে কাজ করতে পছন্দ করতেন। দলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


আপনার মন্তব্য