Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১২

জনসভা নিয়ে নাটকীয়তা

ফের আবেদন বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনসভা নিয়ে নাটকীয়তা

বিএনপির ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জনসভা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছে নানা নাটকীয়তা। সর্বশেষ গতকাল দুপুর ১২টায় বিএনপি জনসভার নতুন তারিখ (১৩ নভেম্বর) ঘোষণার পর শুরু হয় নতুন নাটক। নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল জনসভার অনুমতি পায়নি দলটি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গতকাল দুপুর সোয়া ২টায় এক চিঠিতে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপিকে আলোচনা সভা করার কথা জানায়। বিকাল ৪টায় এ আলোচনা সভা করতে হবে ২৭ শর্তে। কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে। দলটি জানায়, তারা ওই স্থানের জন্য কোনো আবেদনই করেননি। তা ছাড়া বিএনপি আলোচনা সভা নয়, জনসভা করবে বলেও জানায়।

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপি প্রথমত রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আবেদন করলেও তার অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। এরপর বিএনপি গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চায়। কিন্তু আগের রাতেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বিএনপিকে জানিয়ে দেয়, ‘সড়কে জনসভা করা যাবে না।’ এরপর গতকাল দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১৩ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা জনসভা করবেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে ডিএমপি জানায়, আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তাত্ক্ষণিকভাবে এ অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভিতরে আমরা কখনই সমাবেশের অনুমতি চাইনি। আমাদের মহাসচিব জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৩ নভেম্বর রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাই। অন্য কোথাও করব না। অন্য কোথাও সমাবেশ করার কোনো অবকাশ নেই। এ জন্য আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সমাবেশ করতে না দিয়ে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আমরা আবারও বলতে চাই, আগামী ১৩ নভেম্বর আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিন। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে চিঠি পাঠাব। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, দুপুরে বিএনপির দফতর শাখা থেকে একটি প্রতিনিধি দল ১৩ নভেম্বর জনসভার চিঠি নিয়ে ডিএমপি ও গণপূর্তে আবেদন করে। কিন্তু তারা তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। সকালে মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা প্রদানসহ দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পল্টন থানা পুলিশ। তবে পরে তাদের সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানানো হয়। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে সমাবেশের জন্য একাধিক স্থানে তারিখ পরিবর্তন করে কয়েকবার অনুমতি চাওয়ার পর গতকাল শেষ মুহূর্তে ২৭টি শর্তে বিএনপিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের ভিতরে আলোচনা সভা করার অনুমতি  দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির শর্তে বলা হয়েছে, ‘এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়; স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে; ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের অভ্যন্তরে আলোচনা সভার যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে; আলোচনা সভার নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে; স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা স্থলের ভিতর ও বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে; নিজস্ব ব্যবস্থায় ভেহিকল স্ক্যানার বা সার্চ মিররের মাধ্যমে আলোচনা সভা স্থলে আসা সব যানবাহনে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে; নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা স্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে; ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে বা সড়কের পাশে মাইক/সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না; ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন স্থাপন করা যাবে না; ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে, রাস্তায় বা ফুটপাথের কোথাও লোক সমবেত না হওয়া ইত্যাদি’। এ ছাড়াও বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে সমাবেশ শেষ এবং মিছিল সহকারে ‘আলোচনা সভায়’ না আসার জন্য অনুমতিপত্রে উল্লেখ করা হয়।


আপনার মন্তব্য