Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০০
ইসি গঠনে আইন করতে রাজি আওয়ামী লীগ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসি গঠনে আইন করতে রাজি আওয়ামী লীগ
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপের এক পর্যায়ে ফটোসেশনে অংশ নেন —বাংলাদেশ প্রতিদিন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সংবিধান অনুযায়ী এখনই আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারিতে সম্মত আছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ই-ভোটিং’ ব্যবস্থা চালুর পক্ষেও দলটি।

গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উল্লিখিতসহ চার দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। সংলাপে ১৯ সদস্যের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে দেওয়া দলীয় প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয় দলটি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ এ পর্যন্ত ২৩টি রাজনৈতিক দলের সংলাপ হয়েছে। আগামীতে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক     দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন    রাষ্ট্রপতি।

সংলাপে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ নির্বাচনে সুষ্ঠু আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও গুরুত্ব ্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের সিদ্ধান্ত নেবেন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে রকম উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে। ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোন বিতর্ক হোক, তা আমরা চাই না। জনগণ যাকে চাইবে তারাই নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করবে-সেটাই আওয়ামী লীগ চায়।   সংলাপের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ জানান। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আিওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাছান মাহমুদ, আবদুল মতিন খসরু, আবদুস সোবহান গোলাপ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে ই-ভোটিং প্রথা চালুর প্রস্তাব করেন। সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, চার দফা দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের চার দফা প্রসত্মাবের মধ্যে রয়েছে- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নিয়োগ দেবেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইনি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

এগার দফা সুপারিশ মালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেড়্গ আচরণ। ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দে র সার্বিক নিরাপত্তা। নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা। আইন-শৃঙ্খলা রড়্গায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেড়্গ ও দায়িত্বশীল আচরণ। দেশী/বিদেশী পর্যবেড়্গক থেকে শুরম্ন করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা। নির্বাচনে পেশীশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যসত্ম করা। নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রু্নটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। উপরে বর্ণিত বিষয়সমূহ তখনই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদিত হতে পারে যখন প্রতিটি সংস্থা।

আরও দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি : নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে পঞ্চম দফায় আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২৪ দিন আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হওয়া এই সংলাপে বুধবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু ড়্গমতাসীন দলটির সঙ্গে সংলাপ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow