Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০২
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সু চি’র দূতের সাক্ষাৎ
রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ
রোহিঙ্গা সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ

বাংলাদেশে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে দেশটির ওপর চাপ দিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে এবং তাদের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও অং সান সু চির বিশেষ দূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উ চ থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে এ আহ্বান জানানো হয়। উ চ থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সু চির লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। সফররত

বিশেষ দূত এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সু চির বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তার সব নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে শরণার্থী সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে পারে। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ড প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হতে দেবে না। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সম্পর্ক আরও জোরদারে তিনি প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবেন। বাংলাদেশের বিস্ময়কর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে মিয়ানমার শিখতে পারে।

তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সু চির লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করে বলেন, মিয়ানমারও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করতে চায়। সীমান্তে লিয়াজোঁ অফিস খোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের বিশেষ দূত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ওপরও জোর দেন। এর আগে গতকাল দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে মিয়ানমারের বিশেষ দূত বৈঠক করেন।

এরপর কোনো পক্ষই সাংবাদিকদের কাছে বৈঠক প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র সচিব বৈঠকে বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং এ সমস্যা মিয়ানমারকে সমাধান করতে হবে। তবে সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে সহযোগিতা করবে এবং বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবেই এ সমস্যার সমাধান চায়।

বাংলাদেশ জানায়, ১৯৭৮ ও ’৯২ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তখন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে মিয়ানমার স্বীকার করে নিয়েছিল রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আইনগত নাগরিক। বাংলাদেশ আরও জানায়, গত তিন দশকে মিয়ানমারের কয়েক লাখ নাগরিক বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে এবং ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। গত অক্টোবর থেকে নতুন করে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

প্রসঙ্গত, গত দুই মাসে বাংলাদেশ ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে দুই দফা তলব করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ জানায় এবং সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সু চি তার বিশেষ দূতকে ঢাকায় পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

up-arrow