Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের পক্ষে কমিশন
সহিংসতা প্রতিবেদন আটকে দিলেন সুচি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা নিয়ে গঠিত কফি আনান কমিশনের সদস্যরা ঢাকায় বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা গেলেই সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। কমিশনের সদস্য ঘাসাম সালামে সাংবাদিকদের বলেন, অচিরেই এ সংকট কাটবে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে ধর্মীয় কারণ একটি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এদিকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে পুনরায় জমা দিতে বলেছেন। আর টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, মিয়ানমারকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সফররত কফি আনান কমিশনকে বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের সমস্যা নয়। এটি মিয়ানমারের নিজেদের সমস্যা। তাদেরই এর সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা মিয়ানমারকে বলুন এটা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। আনান কমিশনের সদস্যরা গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দফায় দফায় এসেছে। এরা দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। আমাদের ফরেস্ট নষ্ট করছে। তাদের হারানোর কিছু নেই। সব ফেলে এসেছে। তাই যাদের হারানোর কিছু নেই তারা যেকোনো সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এতে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ৮০ শতাংশ নারী মিয়ানমারেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনান কমিশনের সদস্যরা। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। তিনি বলেন, কমিশন সদস্যরা রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের অভিযোগের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন কফি আনান কমিশনের তিন সদস্য। তারা হলেন—মিয়ানমার নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবাননের নাগরিক ঘাসাম সালামে। তারা ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট কক্সবাজার সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন এবং এনজিও সংস্থা আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা) অফিসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছে। আর রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে। পরিদর্শনকালে তিনি লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা রোহিঙ্গা মৌলভী জামালের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আইওএম অফিসে বসত-বাড়ি, ধন-সম্পত্তি হারিয়ে এবং ধর্ষিত ও নির্যাতিত হয়ে আসা জামবনিয়া, বুড়া সিকদারপাড়া ও ওয়াবেগ এলাকার রাজিয়া, বেগম বাহার, ছেহেরা বিবি, মোস্তফা বেগম, রশিদা বেগমও জামালিদা এবং চেয়ারম্যান ডা. দুদু মিয়া, অলি হোছনের পুত্র দিল মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারে অমানবিক এবং লোমহর্ষক নির্যাতনের কথা  শোনেন। ক্ষতি-পূরণ প্রদান ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াসহ নিরাপদ পরিবেশ হলে তারা স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী বলে জানান। এরপর তিনি দুপুর দেড়টায় টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ৯ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হলেও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসব বন্ধ করা না হলে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের সঙ্গে আইওএম বাংলাদেশ অফিস প্রধান পেপে কেবি ছিদ্দিকী, টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ, উপঅধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফিউল আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow