Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৬
ভিসাবাণিজ্য বন্ধ হলে জনশক্তি ও পণ্য রপ্তানি বাড়বে কুয়েতে
শিমুল মাহমুদ, কুয়েত থেকে

কুয়েতে আসার ভিসাবাণিজ্য বন্ধ হলে জনশক্তি ও পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে বলে মনে করছেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অন্যদিকে পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা হলে প্রায় আড়াই লাখ কুয়েত প্রবাসীর ভোগান্তি কমবে। কারণ, পাসপোর্টে দু’বছরের বেশি মেয়াদ না থাকলে ভিসা ইস্যু করে না কুয়েত। ফলে, কুয়েত প্রবাসীরা ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে মাত্র তিন বছরের কার্যকারিতা পায়। কুয়েত প্রবাসীদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, কুয়েতে বাংলাদেশের এক সময়ের সমৃদ্ধ শ্রমবাজারটি নষ্ট হয়েছে নিজেদের নানা অপকর্মের কারণে। বর্তমানে কুয়েতের ভিসা বন্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতিতে যেসব ভিসা পাওয়া যায় সেগুলো বাংলাদেশি ভিসা ব্যবসায়ীরা ৭/৮লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। এ ছাড়া ভিসা জালিয়াতিতেও জড়িত রয়েছে এসব চক্র। বুধবার কুয়েত সিটিতে একটি হোটেলে আয়োজিত কমিউনিটি সমাবেশে  প্রবাসীরা এসব ভিসা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রবাসীরা বলেন, ভারতীয় ও নেপালীরা অনেক কম খরচে কুয়েত আসতে পারলেও বাংলাদেশি ভিসা ব্যবসায়ীদের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৬ সালে কুয়েতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী আসা শুরু হয়। তখন থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কুয়েতে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী চাকরি নিয়ে এসেছেন। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগে ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগ বন্ধ রাখে কুয়েত। গত ১০ বছর ধরে ভিসা বন্ধ থাকায় বর্তমানে সোয়া দুই লাখ বাংলাদেশি কাজ করছে কুয়েতে। কিছু অবৈধ মিলিয়ে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। তবে বিশেষ অনুমতিতে সীমিত সংখ্যায় যে ভিসা চালু রয়েছে সেটি উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেন এক শ্রেণির ভিসা ব্যবসায়ী। প্রবাসী আয়ের দিক থেকে কুয়েত হচ্ছে প্রথম পাঁচটি শ্রমবাজারের একটি। গত বছর কুয়েত থেকে প্রবাসী আয় গেছে ১০৮ কোটি ডলার। উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে কুয়েত পুনর্গঠনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের প্রতি কুয়েত সরকারের আস্থা রয়েছে। সেই বিষয়টি কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরুদ্ধারে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে প্রবাসীরা দাবি জানিয়েছেন।  

পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তি : কুয়েত দূতাবাসে পাসপোর্ট প্রার্থীদের গিজ গিজ করা ভিড়। প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসীর পাসপোর্ট চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন পাসপোর্ট সেকশনের নয় কর্মী। প্রতিদিন ৮/৯০০ লোক আসেন পাসপোর্টের টাকা জমা দিতে ও নতুন পাসপোর্ট নিতে। তাদের সারাদিন কেটে যায় লাইনে দাঁড়িয়ে। দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার ফার্স্ট সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিদিন আমাদের ৪/৫০০ পাসপোর্ট ইস্যু করতে হয়। এখন ফরম ও টাকা জমা, ছবি তোলার কাজ একদিনেই করা হয়। আরেক দিন এসে পাসপোর্ট নিয়ে যেতে পারেন প্রবাসীরা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিস করি আমরা। এখানে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। কিন্তু আমরা শনিবারও অফিস করি। কারণ, দিনের কাজ দিনে শেষ না করলে ঢাকার সার্ভার তা রিসিভ করে না। তিনি বলেন, পাসপোর্টে দুই বছরের কম মেয়াদ থাকলে ভিসা দিতে চায় না কুয়েত। ফলে, আমাদের পাসপোর্টে কার্যত মেয়াদ তিন বছর পায় কুয়েত প্রবাসীরা। এজন্য পাসপোর্টের মেয়াদ দ্রুত ১০ বছর করার দাবি প্রবাসীদের।

দূতাবাসের জমি নিয়ে জটিলতা : কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য ২০১৪ সালের জুনে কুয়েত সরকারের দেওয়া প্লট কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। অথচ একই সময়ে পাওয়া অন্য দেশের প্লটে ভবন হয়ে গেছে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম বলেন, কুয়েতের পক্ষ থেকে যে প্লট আমাদের দেওয়া হয়েছে তার বিনিময়ে ঢাকায় তাদের প্লট দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিচ্ছি। কিন্তু তারা চায় সারাজীবনের জন্য। আমরা বলেছি, ৯৯ বছর মানেই সারাজীবন। সেই প্লট তো আর ফেরত নেওয়া হবে না। কিন্তু তারা এটি বুঝতে চায় না। সেজন্য আমরা এখানকার প্লটটিও রেজিস্ট্রেশন করতে পারছি না। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow