Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭
ছেলেসহ রাগীব আলীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ছেলেসহ রাগীব আলীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

সিলেটের তারাপুর চা বাগানের বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় সিলেটের বিতর্কিত ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো গতকাল জনাকীর্ণ আদালতে এ  রায় ঘোষণা করেন।

সিলেট জেলা জজ কোর্টের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, মহাজালিয়াতির এ মামলার ৪টি ধারায় আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলেকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪৬৬ ধারায় ৬ বছর, ৪৬৮ ধারায় ৬ বছর, ৪৭১ ধারায় ১ বছর এবং ৪২০ ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড রয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে সাজাভোগের আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি আরও বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে এক মহাজালিয়াতির বিচার শেষ হলো। প্রতিষ্ঠা হলো ন্যায়বিচার। এ রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য রায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। গত বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অংশ না নিয়ে আদালত বর্জন করেন তারা। প্রত্যাহার করে নেন ওকালতনামা। আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল মুকিত অপি বলেন, ‘যে আদালত রায় ঘোষণা করেছে সেটির ওপর আমাদের আস্থা ছিল না। তাই আগেই ওকালতনামা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাব। ’ গতকাল বেলা ১১টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্সুক জনতা ভিড় করে। সকালে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাগীব আলীর প্রতারণা মামলার ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে বিকাল ৩টায় জালিয়াতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

কে এই রাগীব আলী : ৭৮ বছর বয়সী রাগীব আলী বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান। ওই ব?্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চা বাগান থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও মিডিয়াতে ছড়িয়ে আছে তার ব্যবসা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চা বাগানের ব্যবসার লাভের কিছু অংশ দান করে রাগীব আলী সিলেটে ‘দাতা’র খ্যাতি পান। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে ‘শিক্ষানুরাগী’ নামও কুড়ান। ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের নিয়ে প্রকাশিত বার্ষিক সাময়িকী ‘হু’জ হু’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালে ১৮ বছর বয়সে লন্ডনে যান রাগীব আলী। সেখানে শেয়ারবাজার, বীমা, আবাসন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা করে তিনি বিত্তশালী হন। পরে দেশে এসে ব্যবসায় হাত দেন।   সাউথইস্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাগীব আলী সিলেট টি কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী টি কোম্পানি লিমিটেড, রাজনগর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিক। ইউনিয়ন সিন্ডিকেট লিমিটেড, রাগীব আলী সিকিউরিটিজ লিমিটেড, দৈনিক সিলেটের ডাকে তার মালিকানা রয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেসের পর্ষদেও তার নাম রয়েছে। সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লিডিং ইউনিভার্সিটি ও ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। এক সময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েরও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। নিজের, স্ত্রীর এবং মায়ের নামে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আরও অনেক স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন রাগীব আলী। মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow