Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৫
ফের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ
সিরাজগঞ্জের গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হালিমুল হক মিরুর শটগানের গুলিতে আহত সাংবাদিক দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল মারা গেছেন। অজ্ঞান অবস্থায় গতকাল সকালে ঢাকা নেওয়ার পথে দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

এ সংবাদ শুনে তার নানী রোকেয়া খাতুন (৯০) স্ট্রোক করে মারা গেছেন। সাংবাদিক শিমুল মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল পৌর মেয়র মিরুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার শাহজাদপুর থানায় এ মামলা করেন।

এদিকে গতকাল সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠন শিমুল হত্যার প্রতিবাদে শাহজাদপুরে বিক্ষোভ করেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগ শাহজাদপুর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের আমিরুল ইসলাম শাহুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচি থেকে ছাত্রলীগ আজ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়। স্থানীয় সাংবাদিকরাও এ দিন অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের পক্ষ থেকে পৌর মেয়র ও তার দুই ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ মেয়রের দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক জানান, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারপিটের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে গতকাল সকালে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় শাহজাদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু, তার ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫-৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মেয়রের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মেয়রের ব্যবহূত শটগানটি জব্দ করা হয়েছে। মারপিটের কারণে বিজয়ের দুই পা ও ডান হাত ভেঙে গেছে। তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সাংবাদিক হত্যার বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়াও মেয়রকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একটি টিম মাঠে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আকরামুজ্জামান জানান, গতকাল বিকেলে শিমুলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার মাথার মধ্যে একটি গুলি পাওয়া গেছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, শিমুলের বাড়ি পৌর শহরের মাতলা গ্রামে। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন।  

এ হামলা ও মারপিটের ঘটনার পর থেকে পুরো শাহজাদপুর উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। গতকাল বিকালে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষ আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রাথমিকভাবে দাফনের জন্য সাংবাদিক পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীবাড়ি এলাকায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক ছাত্রনেতা বিজয়কে বেধড়ক মারপিট করে তার হাত-পা ভেঙে দেয়। এর জের ধরে মেয়রের বাড়ি ঘেরাওয়ের সময় পৌর মেয়র তার নিজের শটগান দিয়ে গুলি করলে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক শিমুল মাথায় ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন।

এরশাদের ক্ষোভ ও নিন্দা : শাহজাদপুরে পৌর মেয়রের গুলিতে সাংবাদিক শিমুল নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি নিহত শিমুলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow