Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৮
সবার সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন অসম্ভব
গোলাম রাব্বানী
সবার সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন অসম্ভব
মো. শাহনেওয়াজ

সবার সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন করা অসম্ভব বলে মনে করেন বিদায়ী নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। তিনি বলেছেন, প্রার্থী, ভোটার, যারা ভোট নেবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর নির্বাচন হয়।

তাই ভালো নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা দরকার। যেমন নারায়ণগঞ্জে সবাই চেষ্টা করেছেন। ভালো নির্বাচন হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন অবশ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। কিন্তু তাদের সবাই সহযোগিতা করলেই একটা সুন্দর নির্বাচন হয়। নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অন্যদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন করা অসম্ভব। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি। বিদায়ের আগে বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার।   আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন তিনি। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, সুন্দর নির্বাচনের জন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা দরকার হয়। নির্বাচনের সময় সবাই নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে থাকে। তারপরও কথা আছে, সব অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের চোখে নাও পড়তে পারে। আমাদের সদিচ্ছা ছিল সুন্দর নির্বাচন করার। আইন মেনেই আমরা সব কাজ করেছি।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে পাঁচ বছর আমরা সুন্দর কাটিয়েছি। আমাদের টিমওয়ার্ক ছিল। তবে টিমওয়ার্ক শুধু পাঁচজনের মধ্যে হলেই হবে না। একেবারে তৃণমূল থেকে সিইসি পর্যন্ত টিমওয়ার্ক থাকতে হবে। আমাদের পাঁচজনের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতানৈক্য হলেও সার্বিক বিষয়ে আমরা ঐকমত্যেই ছিলাম। তিনি বলেন, ইসিতে নিবন্ধিত সব দল আমাদের কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। যদিও তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় আমাদের পক্ষে যায়নি। তারপরও তারা আমাদের কখনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি।

শাহনেওয়াজ বলেন, পাঁচ বছর আমরা ভালোভাবেই কাটিয়েছি। আমাদের যে পাঁচজন কমিশনার ছিলেন সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আমরা কাজ করেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচন করেছি। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন থেকে সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত। মূলত সবগুলো নির্বাচন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। সুন্দরভাবে উঠিয়ে নেওয়া একটা বিরাট ব্যাপার ছিল। প্রথম যে নির্বাচনগুলো করেছি এর মধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছি। সেগুলো সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।

নির্বাচনী অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখেছি, আমরা যাদের দিয়ে কাজ করিয়েছি; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা ভোটগ্রহণ করেন, যারা অন্যান্য কাজ করেন তারা কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেননি। একপর্যায়ে দেখা গেছে, তাদের আমাদের শাস্তিও দিতে হয়েছে। প্রত্যেক নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করি। তবে কিছু নির্বাচন নিয়ে আক্ষেপ তো রয়েছেই। এগুলো আরও সুন্দর হতে পারত। রাজনৈতিক দলগুলো বেশির ভাগ সময় সহযোগিতা করলেও কিছু কিছু সময় করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের কর্মীরা অতি উৎসাহী হয়েছে। অনেক প্রার্থীর মধ্যে জনগণের ভোটের চেয়ে যেনতেনভাবে নির্বাচিত হওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করেছে। আর যারা নির্বাচনের জন্য কাজ করেছে তারাও কেউ কেউ সঠিকভাবে কাজ না করে প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছে। এমনকি ধরাও হয়েছে। অনিয়মও করেছে। সব অনিয়ম হয় তো আমাদের নজরে আসেনি।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে বলব, ৫টি বছর আমরা সুন্দরভাবে কাটিয়েছি। কিছু সার্থকতা, কিছু ব্যর্থতা তো থাকতেই পারে। তবে সার্থকতাটাই বেশি আমাদের। একইভাবে স্মার্টকার্ডের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এই বছরের শেষ দিকে সব বিতরণও হবে। আমাদের আগের কমিশন যদিও ইসির নতুন ভবনের পরিকল্পনা পাস করেছিল। কিন্তু সেই কাজ আমাদের সময়ে শেষ হয়েছে। আমরা নতুন ভবনে উঠেছি। এটাও আমাদের একটা আশার দিক। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নতুন কমিশনের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা থাকবে। তারা সুন্দরভাবে কাজ করবেন। আর অবসর জীবনের বিষয়ে তিনি বলেন, অবসরটাকে আমি অবসর যাপনের মতোই করব। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখব।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow