Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৯
শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সুরঞ্জিতকে বিদায়
নিজ গ্রামে শেষকৃত্য
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সুরঞ্জিতকে বিদায়

মুক্তিযুদ্ধের সাবসেক্টর কমান্ডার, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট  পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় তার জন্মস্থান দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুর গ্রামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান (দাহ) সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মরদেহ দিরাইতে তার বাসভবনে নেওয়ার পর জাতির এই কৃতী সন্তানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাস্বরূপ পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। আনোয়ারাপুরের নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় চন্দনগাছের কাঠ দিয়ে তাকে দাহ করা হয়। ১৪-১৫ বছর আগে চন্দন গাছটি সুরঞ্জিত নিজেই রোপণ করেছিলেন। যখনই এই বাড়িতে আসতেন। তিনি গাছটির পরিচর্যা করতেন নিজ হাতে। তার মৃত্যুতে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ৩ দিনের শোক পালন করছে। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে স্বজন, রাজনীতিক সহকর্মী, ভক্ত-অনুরক্ত ও সাধারণ মানুষের চোখের পানিতে সৃষ্টি হয় বেদনাবিধূর এক পরিবেশের। অনুষ্ঠানে সুরঞ্জিত সেনের ছেলে সৌমেন সেন এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  

 

এর আগে গতকাল বেলা ১টার দিকে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর সিলেট থেকে সুরঞ্জিত সেনের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। রাখা হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে। সুনামগঞ্জবাসীর প্রিয় ‘দাদা’কে শেষ বারের মতো একনজর দেখতে সেখানে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষ সব মত ও পথের মানুষ। শোকার্ত মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। নানা শ্রেণিপেশার এইসব মানুষ একে একে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের বিশ্বাসী হলেও অনেকেই তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করেন। তার এই মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পুলিশের চৌকস একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আজীবন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা করে গেছেন। তার এই কর্মকে বর্তমান প্রজন্মের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একজন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একজন আদর্শ জাতীয়তাবাদী নেতা। মুহিবুর রহমান মানিক এমপি বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কোটি মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন। তার মরদেহ দেখার জন্য মানুষের এই ঢল দেখেই বোঝা যায় রাজনীতি করে মানুষকে তিনি কতটা আপন করে নিয়েছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ স ম খালিদ বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দলমত নির্বিশেষে সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব ছিলেন। তার এই চলে যাওয়ায় আমরা একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিকে হারালাম।   শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, হুইপ সাহাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, শাহানা রব্বানী এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মাস্টার, পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, আবুল কালাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আকিক, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব উদ্দিন, রইছ উদ্দিন আহমদ, নান্টু রায়, করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, শামীম আহমদ চৌধুরী, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ, সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। সুনামগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিকালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নিজ নির্বাচনী এলাকার দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজার হাজার মানুষ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত রবিবার ভোরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান। শনিবার রাত ৮টার দিকে তাকে এই হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। তার আগে শুক্রবার তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow