Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৭
প্রতিকূলতার মধ্যেও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিকূলতার মধ্যেও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ

নির্বাচন কমিশনে নিজেদের মেয়াদের সময়টি প্রতিকূল অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে সাংবিধানিক দায়িত্ব্ পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর কথা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। পূর্ণ মেয়াদ শেষে বিদায় নেওয়ার আগে গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে গিয়ে সাক্ষাতের সময় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

পরবর্তী নির্বাচন কমিশন নিয়োগের একদিন পর সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর বিকালে বঙ্গভবনে যান বিদায়ী ইসির সদস্যরা। এ সময় সিইসি কাজী রকিবের সঙ্গে ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে তাদের প্রায় আধা ঘণ্টা বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, সিইসি বলেছেন, যখন আমরা দায়িত্ব নিয়েছি তখন আমাদের অঙ্গীকার ছিল সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করার। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা আমাদের কাজ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। সিইসি কাজী রকিব রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, তাদের সময়ে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, সিইসি এ সময় তাদের কার্যকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রপতি সাহসের সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিদায়ী কমিশনকে ধন্যবাদ জানান বলে প্রেস সচিব উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহায়তার প্রয়োজনের কথাও তুলে ধরেন।

স্মৃতিসৌধে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনাররা : এদিকে সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি নতুন নির্বাচন কমিশনও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। নতুন ইসিকে স্বাগত জানিয়ে কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সাংবিধানিক, যা দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে গেছি। তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার সহকর্মী অন্য নির্বাচন কমিশনাররা অন্তর থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও একই কাজ করবেন বলে আশা করছি। ইসিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে রকিবউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, নতুন যারা এসেছেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছেন, এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। দেশের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং আমরাও এটা অন্তর থেকে পালন করে এসেছি। আমাদের আশা রয়েছে, আস্থা রয়েছে, তারাও যোগ্যতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করবেন। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন কাজী রকিবউদ্দীন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ এবং ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সঙ্গে ছিলেন। আজ নির্বাচন কমিশনে বর্তমান ইসির শেষ দিন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সোমবার সার্চ কমিটির সুপারিশ করা ১০ জনের তালিকা  থেকে পাঁচজনকে নতুন ইসির জন্য মনোনীত করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow