Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৫
একক লড়াইয়ের টার্গেটে জাপা
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
একক লড়াইয়ের টার্গেটে জাপা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার জন্য স্বয়ং এরশাদ সারা দেশে একের পর এক সাংগঠনিক সফর করছেন।

গত ১ অক্টোবর সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এ সফর শুরু হয়। ইতিমধ্যে দেড়শ আসনের প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা সম্পন্ন করেছেন। জোটগতভাবে নির্বাচন করে দলকে আর ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না এরশাদ। এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি কৌশল হিসেবে সরকার ও বিরোধী উভয় শিবিরেই যোগাযোগ করছে জাতীয় পার্টি।

জানতে চাইলে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে জাপা প্রার্থী দেবে। পার্টি চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হয়েছে। জানা যায়, দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছেন এইচ এম এরশাদ। প্রথমত. আগামী নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে ভালো ফল অর্জন। দ্বিতীয়ত. ভালো ফলের পূর্বশর্ত হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা।

এ লক্ষ্যে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দলকে আরও গতিশীল, সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে চান তিনি। এদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আজ কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলের যৌথ সভা আয়োজন করা হয়েছে। এ সভায় এইচ এম এরশাদ নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেবেন। দলীয় সংসদ সদস্যদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও যার যার এলাকায় যাতায়াত বাড়াতেও বলা হয়েছে। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে; যাতে আগামী নির্বাচনে দল কোনোভাবে প্রার্থী সংকটে না পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরও আড়াই বছর বাকি। কিন্তু এখনই আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছে জাতীয় পার্টি। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ করছেন এইচ এম এরশাদ। মূলত দলের সাংগঠনিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে আগামী নির্বাচনকে কৌশল হিসেবে নিয়েছেন তিনি। এ সুযোগে যোগ্য প্রার্থীর খোঁজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করছেন, একসময় তৃণমূলে জাপার ভালো অবস্থান থাকলেও এখন আর তা নেই। তাই এককভাবে নির্বাচন নিজেদের জন্য কতটা লাভজনক হবে তা নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা করতে হবে। জানা গেছে, আগামী নির্বাচন একক না জোটগতভাবে করা হবে, এ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন এরশাদ। এ নির্দেশনা পেয়ে ইতিমধ্যে পার্টির বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কয়েকজন বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। তখনকার পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের সময় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ হাসপাতালে। পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্দেশনায় আমিসহ পার্টির ২২৪ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলাম। দেখা গেল বর্তমান সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের নেতৃত্বে পার্টির একটি অংশ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। পার্টির মহাসচিবসহ অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আবারও নির্বাচন আসছে। আবারও দলের প্রার্থী তালিকা তৈরি হচ্ছে। দলে কার কথা বিশ্বাস করব ও আর কার সঙ্গে থাকব বুঝে উঠতে পারছি না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow