Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৭
সংশয়-শঙ্কা নিয়েও প্রস্তুতি বিএনপিতে
মাহমুদ আজহার
সংশয়-শঙ্কা নিয়েও প্রস্তুতি বিএনপিতে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও বিএনপিতে সংশয় বিরাজ করছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা দলটি এখন জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার হিসাব-নিকাশ করছে।

নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, এ নিয়েও সন্দিহান দলটি। আবার নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ কোন পদ্ধতিতে হবে তাও স্পষ্ট নয়। তবে নির্দলীয় সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ের সক্ষমতা নিয়েও দলের ভিতরে-বাইরে রয়েছে নানামুখী প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না গেলে পরবর্তী সময়ে করণীয় কী হবে তা নিয়েও ভাবনার শেষ নেই। তবে নানামুখী শঙ্কা আর সংশয়ের মধ্যেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সারা দেশে দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীর বিষয়টি মাথায় রেখেই তৃণমূলের কমিটিগুলোও দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রার্থীর চাওয়া-পাওয়াকে। প্রতিটি জেলায় একজন প্রার্থীর বিপরীতে বিকল্প একাধিক প্রার্থীও রাখা হচ্ছে। পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু না হলেও এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে করা জরিপও রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। তবে সামনের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বাড়ানো হবে নারী প্রার্থীর সংখ্যা। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষিত নেতাদেরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি সব সময় নির্বাচনমুখী দল। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ দলটির নির্বাচন প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। সাংগঠনিক কার্যক্রম চলার মধ্যেও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হয় না। তবে আমাদের যৌক্তিক দাবি নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠন করতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। ’

দলীয় সূত্রমতে, সংসদীয় আসনভিত্তিক দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীর অংশগ্রহণের ফলাফল, বর্তমানে তাদের অবস্থান, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা, নির্বাহী কমিটিতে প্রার্থীর অবস্থান, জেলা ও থানা নেতৃত্বের মতামত, বিগত সময়ে আন্দোলনে ভূমিকা, যোগ্যতা, ব্যক্তিগত চরিত্রসহ দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে সামনে আনা হচ্ছে।

জানা যায়, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দলের প্রার্থিতা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে এটা নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর। বিকল্প হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নামও রয়েছে। পঞ্চগড়-২ আসনে মোজাহার হোসেনের মৃত্যুতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ফরহাদ হোসেন আজাদের দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। ঠাকুরগাঁও-১-এ নির্বাচন করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও-২-এ মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। এ ছাড়া দলীয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেড মর্তুজা তুলার ও ফয়জুল ইসলাম হিরু। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাহিদুর রহমান। এ ছাড়া জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সাবেক দুই ছাত্রনেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও কামাল আনোয়ার আহম্মেদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। দিনাজপুর-২ আসনে নির্বাচন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। দিনাজপুর-৩ আসনে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। দিনাজপুর-৪-এ আক্তারুজ্জামান মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন এবং দিনাজপুর-৫ আসনে এ জেড এম রেজোয়ানুল হকের নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুর-৬ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি।

নাটোর-১-এ মরহুম ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরিনের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর নাম নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। নাটোর-২-এ নির্বাচন করবেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। নাটোর-৩-এ শামীম আল রাজির নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে কাজী গোলাম মোর্শেদ ও আনোয়ার হোসেন আনুর কথাও বলছেন নেতা-কর্মীদের অনেকেই। নাটোর-৪ আসনেও অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ঘিরেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা। এ ছাড়া আবদুল আজিজ ও মশিউর রহমানের নামও বলছেন কেউ কেউ।

দলীয় সূত্রমতে, আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপি কিছু বিষয় সামনে রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে বিএনপি। নতুন ইসিকে চাপে রেখে দাবি আদায়ের কৌশল নেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করবে বিএনপি। তার অতীতের ভূমিকা সারা দেশে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। একইভাবে কূটনৈতিক বলয়েও সিইসি নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বিএনপি। অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ব্যাপারে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবে দলটি। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপাতত তেমন কোনো সমালোচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, শিগগিরই সহায়ক সরকারের রূপরেখাও তুলে ধরবেন বিএনপিপ্রধান। এ নিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতারা কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের ১৩ দফাও দেশ-বিদেশে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও চলছে। এ কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সিইসি নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেশবাসীর। তবে সবার অংশীদারিত্বের নির্বাচনে শুধু নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নয়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাদেরও দলনিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি। আমরা আশা করি, নির্দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে সহায়ক সরকার গঠিত হবে। অন্যথায় বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে যাওয়া কীভাবে সম্ভব?’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow