Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৩
ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রশাসন জোর উন্নয়ন কাজে
মাঠ প্রশাসনে পাঠানো হচ্ছে যোগ্য ও সরকারের প্রতি অনুগতদের
নিজামুল হক বিপুল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় দুই বছর। সেই নির্বাচন সামনে রেখে সরকার তার সব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে ঢেলে সাজাচ্ছে একাধিক সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসনে বিশেষ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং বদলি কার্যক্রম চলছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিন জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন অবশ্য বলছে, এগুলো রুটিন ওয়ার্ক।

প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন আরও গতিশীল করতে এবং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষ, যোগ্য এবং সরকারের প্রতি অনুগত কর্মকর্তাদের মাঠ প্রশাসনে পাঠানো হচ্ছে। মূলত আগামী সাধারণ নির্বাচনে আগে সরকারের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্যই সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ইতিপূর্বে করা ফিটলিস্টের আলোকে আগামী কয়েক মাসে সব জেলায় ডিসি পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। জানা গেছে, আগে করা ডিসি ফিটলিস্ট ধরেই গত মঙ্গলবার দেশের তিন জেলা নরসিংদী, খাগড়াছড়ি এবং শেরপুরে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রংপুরের ডিসিকে সিলেটে এবং খাগড়াছড়ির ডিসিকে রংপুরে বদলি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, যাদের এখন ডিসি করা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে প্রশাসনে থাকবেন। গুরুতর কোনো অনিয়মের অভিযোগ না উঠলে এসব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার বা বদলির সম্ভাবনা খুবই কম। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদেও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং বর্তমানদের মধ্যে যারা সরকারের প্রতি অনুগত হয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের স্টেশন বদল করে মাঠে রাখা হবে।  

অবশ্য সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, ডিসি নিয়োগ একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে হয়। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ডিসি ফিটলিস্ট তৈরি করে। তার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তবে আমি মনে করি শুধু ডিসি নয়, ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং ওসি নিয়োগ ও বদলি মেধার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিবেচনায় না হওয়াই উত্তম। তাছাড়া যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা নির্বাচনের সময় যেসব মোটা দাগে প্রতিশ্রুতি দেয়, ওই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সরকারের প্রতিশ্রুতি হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারেন পদ্মা সেতুর কথা। এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হলেও তারা ক্ষমতায় আসার পর এটি সরকারের প্রতিশ্রুতিতে রূপান্তর হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে সরকার মাঠ প্রশাসনে নিয়োগ দিলে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকার সমর্থক কর্মকর্তারা অনেকটাই বঞ্চিত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দফায় যাদের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম-সচিব পদে উন্নীত করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের সুবিধাভোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের অনেকেই আবার বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাই এখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন। এসব জায়গায় সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তাই বঞ্চিত। এক্ষেত্রে সরকার সমর্থক কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রেষারেষি, পছন্দ-অপছন্দ থাকার কারণে সুবিধাবাদী কর্মকর্তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, সরকার সমর্থক মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারা অব্যাহতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং অসন্তোষ আছে। এই ক্ষোভ দ্রুত প্রশমিত করা না গেলে নির্বাচনের আগে তা বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে।

শুধু তাই নয়, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার যে মাঠ প্রশাসনকে ঢেলে সাজাচ্ছে তাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow