Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৬
পাঁচ বছরেও কাটেনি রহস্য, হতাশ সবাই
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঁচ বছরেও কাটেনি রহস্য, হতাশ সবাই

কাল থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগের এক সাতসকালে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত লাশ মেলে। আঁতকে ওঠা এমন খবর শোনার পর দেশের মানুষের মনে তখন দুটি প্রশ্ন জাগে—সাগর-রুনি দম্পতির খুনি কারা? কেন তারা নৃশংস খুনের শিকার হলেন? এ দুটি প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘স্রেফ ৪৮ ঘণ্টা, এই সময়ের মধ্যেই খুনিরা ধরা পড়বে।

খুনের কারণও জানা যাবে। ’

হত্যার রহস্য শুরু সেই থেকে। ৪৮ ঘণ্টার সেই আলটিমেটাম শেষ হলো না পাঁচ বছরেও! আর এই সময়ের মধ্যে সরকার বদল হয়েছে একবার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনজন।

 তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আলোচিত হওয়া সেই পুলিশপ্রধান অবসরে গেছেন। থানা থেকে দেশের বিভিন্ন সংস্থা হয়ে মামলার তদন্ত ঘুরেছে সুদূর মার্কিন মুলুক পর্যন্ত। কবর থেকে লাশ তোলা শুধু নয়, তদন্তের সব কটি শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু ফল শূন্য। ঘটনার পর দুটি প্রশ্নের অবস্থান যেখানে ছিল, পাঁচ বছর পরের অবস্থানও সেই একই স্থানে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তকাজ শেষ হয়নি। এটি স্পর্শকাতর মামলা। ভেবেচিন্তে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছরের মাথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সেই পুরনো কথা আবারও বললেন। গতকাল সকালে এপিবিএনের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাই কোর্টের নির্দেশে এটি এখন র‌্যাবের তদন্তাধীন। তারা তদন্ত করছে। এর আপডেট জানা নেই। এদিকে ৪৬ বার সময় নিয়েও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত?্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব?্যর্থ হওয়ায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত র‌্যাব কর্মকর্তা এএসপি মহিউদ্দিন আহমেদকে তলব করেছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম বুধবার এ আদেশ দিয়ে বলেছেন, তদন্তের কী অগ্রগতি হয়েছে তা তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে জানাতে হবে। সেই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন?্য ২১ মার্চ নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক। পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে দিতে হতাশ, ক্লান্ত সাগর-রুনির স্বজনরা। এখন আর এ নিয়ে কথা বলতে চান না তারা। বিচারের আশাও ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, দিন যায় বছর যায়, আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয় না। মামলার বাদী ও নিহত মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, পাঁচ বছরেও যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি, তা আর কোনো দিন হবে বলে মনে হয় না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী জানান, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়।

এ হত্যার বিচারের দাবিতে ডিআরইউর পক্ষ থেকে আগামীকাল বেলা ১১টায় ডিআরইউ চত্ব্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে সাংবাদিক সমাজের সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সাংবাদিক মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে তানভীর রহমান ও ওই বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। এ আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow