Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৯
যখন তখন কারও ব্যাংক হিসাব তলব কাম্য নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
যখন তখন কারও ব্যাংক হিসাব তলব কাম্য নয়
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এক ধরনের তামাশা চলছে। দেশে যেভাবে এটা চলছে তাকে প্রতারণা বলা যায়।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ব্যাংক একটি আস্থার জায়গা। এটাকে সেভাবে রক্ষা করতে হবে। যখন তখন কারও ব্যাংক হিসাব তলব করার এখতিয়ার থাকা উচিত নয়। এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে এনবিআর আয়োজিত উপ-কর কমিশনার সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং হিসেবে তাকে প্রচারণা করা হয়। বিদেশিরাও খুব ভালো বলতে পারে। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে যা চলছে তাকে প্রতারণা বলা উচিত। এখানে ১০০ টাকা স্থানান্তর করতে হলে ১ টাকা ৮৬ পয়সা দিতে হচ্ছে। এর অর্থ গ্রাহককে প্রায় দুই টাকা দিতে হচ্ছে। যেখানে ব্যাংকিং সিস্টেমে মাত্র ৪০ পয়সা খরচ হয়। কেন এটা এত বেশি হবে। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমের দেশের সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে বিদেশিরা লাভবান হচ্ছে। কীভাবে এটিকে ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আনা যায়- তা নিয়ে ভেবে দেখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাবেক গভর্নর বলেন, ব্যাংক মানুষের খুব আস্থার জায়গা। সেভাবেই এটাকে রক্ষা করতে হবে। এনবিআর কর্মকর্তারা চাইলেই যে কারও ব্যাংক হিসাব দেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। ব্যাংকিং মাধ্যমে একজন লোকের টাকা আছে সেটাকে যখন তখন দেখার প্রয়োজন নেই। খুব বেশি জরুরি না হলে কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব দেখা উচিত নয়। কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেই গ্রাহকের হিসাব খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ এটা মানুষের আমানত। তা রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, একজন গ্রাহকের টিআইএন না থাকলে একজন গ্রাহক ব্যাংক আমানতে ১৫ শতাংশ কর দেন। থাকলে তার ১০ শতাংশ দিতে হতো। এখানে তো এনবিআরের লাভ হচ্ছে। এখন কেন একজন গ্রাহক টিআইএন করছে না তা খতিয়ে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, আধুনিক ও সম্পূর্ণ করবান্ধব পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। এখানে কেউ ছোট-বড় নয়। যিনি কর দিচ্ছেন তিনি দেশ গড়ার জন্য কর দিচ্ছেন- এটা বোঝাতে হবে। গ্রাহককে যেভাবে চিঠি দেওয়া হয় সেখানে সবার সম্মান, মর্যাদা রেখে চিঠি দিতে হবে। একজন নাগরিকের জানার অধিকার আছে কেন তিনি কর দেবেন। কেউ জানতে চাইতেই পারে। সেজন্য এনবিআর তাকে হয়রানি করবে, তা কাম্য নয়। নাগরিক সুবিধার জন্যই সবাইকে কর দিতে হবে। যত বেশি রাজস্ব আদায় হবে-তত বড় প্রকল্প তৈরি সম্ভব হবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো রেল খাতেও উন্নতি সম্ভব হবে। ফরাসউদ্দিন বলেন, কৃষিতে কর আরোপের বিষয়টি চিন্তা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অনেকে কৃষিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে। এ ছাড়া ভূমিকর, মিষ্টি ও ওষুধের দোকানের ব্যবসার ওপর কর আরোপের চিন্তার সময় এসেছে। কর ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের আওতায় এলে এর স্বচ্ছতা বাড়বে। কর আহরণও বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন মামলা জটিলতায় এনবিআরের প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। তাই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে নজর দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, এনবিআর সদস্য মো. আবদুল রাজ্জাক, আলমগীর হোসেন, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow