Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২২
রোহিঙ্গা নির্যাতন গণহত্যার শামিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা নির্যাতন গণহত্যার শামিল

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে গণহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। গতকাল কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে দুটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন ব্লেক।

তার সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার বিনো পিয়েরে লারামি ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার  জুলিয়া নিব্লেট ছিলেন। এ সময় তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে সেখানকার সেনাবাহিনীর হত্যা-ধর্ষণ, দমন-পীড়নের বর্ণনা শোনেন। অ্যালিসন ব্লেক বলেন, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সে দেশে সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। এ নির্যাতন গণহত্যার শামিল। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের তিন হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত নির্মম। আর এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও জোরালো করতে হবে। তারা নির্যাতিত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসাও করেন। সকালে তিন হাইকমিশনার উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ৩০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। রাখাইন রাজ্যের খিয়ারিপ্রাং গ্রামে গত ২৮ ডিসেম্বর সেখানকার সেনাবাহিনী কর্তৃক বর্বর অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ ও আগুনে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই গ্রাম  থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা নারী। ওই নারীও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। আরেক রোহিঙ্গা কামাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে, সে জন্য বেছে বেছে মেয়েদের গণধর্ষণ ও শিশুদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় না পেলে রোহিঙ্গাদের নাফ নদে ঝাঁপ দিয়ে মরতে হতো। কানাডার হাইকমিশনার বিনো পিয়েরে লারামি বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবাধিকার রক্ষায় এ সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় একযোগে কাজ করা উচিত। অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার জুলিয়া নিব্লেট বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিজের দেশে ফিরতে পারে, আর নির্যাতনের শিকার না হয়, তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow