Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
তালা ঝোলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসে
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ থেকে ফিরে
তালা ঝোলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসে

মাদক ব্যবসায়ীরা টেকনাফকে নাম দিয়েছে ‘ইয়াবা গেট’। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট দেশের সর্ব দক্ষিণের এই উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে বলেই এই নাম দেওয়া।

এ উপজেলাকে ইয়াবা নগরীও বলা হয়ে থাকে। দেশের ইয়াবার গডফাদার থেকে শুরু করে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বাস এই টেকনাফে। আর  মাদক ব্যবসা ও পাচার রোধ করা যে সরকারি সংস্থাটির একমাত্র কাজ, ইয়াবা নগরী টেকনাফে সেই সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অফিসে ঝুলে থাকে তালা। কখনো কখনো খোলা হয়। তবে অধিকাংশ সময় থাকে তালাবদ্ধ।

গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে টেকনাফ শহরের ইউএনওর কার্যালয়ের উল্টো দিকের ভবনের দোতলার অফিসটিকে এমনই তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই কার্যালয়ের পাশের দুই কক্ষে সমবায় অফিস। সেখানকার অফিস সহকারীর কাছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকজনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উনারা তো এখন নেই। তবে একজনের ফোন নম্বর আছে।

তার কাছ থেকে নম্বর নেওয়া হলো। ফোন ধরলেন সুপর্ণ। তিনি নিজেকে সিপাহি পরিচয় দিলেন। বললেন, তিনি কোস্টগার্ডের কাছ থেকে মাদকের স্যাম্পল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন ল্যাবরেটরিতে। আর কেউ নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই অফিসে তারা আছেন তিনজন। দুজন সিপাহি আর একজন পরিদর্শক। সুপর্ণের কাছ থেকে জানা গেল, পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা আরও দুই দিন আগে একটি মামলায় সাক্ষী দিতে গেছেন চট্টগ্রামে। আর সিপাহি উত্তম বরণও গেছেন আরেকটি মামলায় সাক্ষী দিতে চট্টগ্রামে। তাই অফিস করার মতো কেউ নেই।

জানা গেছে, ইয়াবা নগরী টেকনাফে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের এই অফিস চলে এই তিনজনকে দিয়েই। তাদের পরিবহনের কোনো গাড়ি নেই। তাই তারা চলাচলও করতে পারে না। সাক্ষী দিতে গেলে বা অসুস্থ হলে অফিস এমন ভাবেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

up-arrow