Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২১
আইনের আওতায় আনতে হবে মাদকে জড়িত সবাইকে
বাংলাদেশ প্রতিদিন গোলটেবিল বৈঠকে অভিমত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক ব্যবসায়ী, মাদক বহনকারী ও মাদকসেবী সবাইকেই আইনের আওতায় আনতে হবে। ইয়াবার মতো মাদক ধ্বংস করছে মানুষ।

মানুষের জীবনীশক্তি, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করছে। মাদকের আগ্রাসন থেকে দেশ, সমাজ ও তারুণ্যকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে

ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানের জন্য নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। অনুষ্ঠানটি সকাল সোয়া ১০টা থেকে নিউজ টোয়েন্টিফোরে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সভাপতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মমতাজউদ্দিন আহমেদ মেহেদী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) জিল্লুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম, র‍্যাব-৪-এর সিও খন্দকার লুত্ফুল কবীর, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা, চলচ্চিত্র অভিনেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান, সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা সেলিম হোসেন আজাদী।

বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম যদি গুরুত্বের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে মাদক নিয়ন্ত্রণের চলমান লড়াইটা আরও সহজ হয়ে যাবে।

এ সময় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনারও তাগিদ দেন বিশিষ্টজনরা।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, আগেকার দিনে বাবা-মায়েরা সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতেন। এখন তারা অসম প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়ে সেভাবে সন্তানদের দেখভাল করতে পারেন না। অনেক সময় হতাশায় ছেলে-মেয়েরা মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। আর মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম যদি গুরুত্বের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণের চলমান লড়াই আরও সহজ হবে। তবে যারা মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। এমনকি জনগণের সামনে তাদের চরিত্র উন্মোচন করা উচিত। এখানে পারিবারিক বন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা পরিবার থেকে পেয়েছি। কিন্তু দেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে আমরা কতটুকু সততার শিক্ষা দিতে পারছি?’ মাদকের অবৈধ ব্যবহার ও পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সীমাবদ্ধতা, আইনের ফাঁকফোকর গলে মাদক ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে মতামত দেন বক্তারা। শুরুতেই বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার মির্জা মেহেদী তমাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিনিয়র রিপোর্টার আশিকুর রহমান শ্রাবণ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও ঢাকায় মাদকের চোরাচালান অপব্যবহারসহ সরেজমিন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

► গোলটেবিল বৈঠকের বিস্তারিত  রকমারিতে

up-arrow