Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৭
ফরিদপুরে পরিচয় মিলেছে ৫ জনের
গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেই এত প্রাণহানি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার

ফেটেই এত প্রাণহানি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় গত শুক্রবার রাতে বাস-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচজনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুড়ে যাওয়ার কারণে বাকিদের লাশ শনাক্ত করা যায়নি। গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেই  এত প্রাণহানী হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল ভোরে নড়াইল থেকে কয়েকশ মানুষ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় জমান। তারা হাসপাতালে রাখা লাশগুলো শনাক্তের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাই এতে ব্যর্থ হন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, নিহতদের সবাই আগুনে এমনভাবে পুড়েছে যে পরিচয় শনাক্ত করা কষ্টসাধ্য। লাশগুলো পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন বাসের চালক নড়াইল জেলার হেমায়েত হোসেন, কাভার্ড ভ্যানের চালক যশোরের আশা ইসলাম, ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের ডা. মো. গোলাম রসুল সিকদার, নড়াইল জেলার আলমগীর শেখ, মো. শাহজাহান মোল্যা। বিকালে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে লাশের পোস্টমর্টেম করা হয়। ফরিদপুরের লাশকাটা ঘরে এখনো ৮ জনের লাশ রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে লাশগুলো আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে একটি ‘সেল’ গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদেরকে এই সেলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম নাসির জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. কামরুজ্জামান সেলিম জানান, নিহতদের লাশ নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সব খরচ বহন করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow