Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৫
খালেদা মাইনাসে নির্বাচনে না
চেয়ারপারসন থাকাবস্থায় অন্য কিছু ভাববে না বিএনপি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা না দিতে সতর্কতা
মাহমুদ আজহার
খালেদা মাইনাসে নির্বাচনে না

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাইনাস’ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এমনকি বিএনপি প্রধান থাকাবস্থায় নতুন কোনো নেতৃত্বের কথাও ভাবছে না দলটি।

অবশ্য খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও আস্থা নেতা-কর্মীদের। বিএনপি প্রধানের মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকেই শেষ ভরসাস্থল মনে করেন দলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সিরিজ বৈঠকেও নেতাদের বক্তব্যে এই মনোভাব ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ গতকাল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের এক যৌথসভায়ও নেতারা এই মনোভাব প্রকাশ করেন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, জিয়া পরিবারকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করার একটি ষড়যন্ত্র ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু হয়। ধারাবাহিকতা সেই এখনো রয়েছে। এ জন্য কখনো কখনো দলের ভিতর বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়। ওয়ান-ইলেভেনেও করা হয়েছে। এখনো হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা ওই ষড়যন্ত্রে পা দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। যে গুটিকয়েক নেতা কথিত সংস্কারপন্থি এখন তারা অনুতপ্ত। সংস্কারের অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত বেশ কয়েকজন এমপি ও নেতা এখনো বাইরে বটে, কিন্তু বিএনপির বাইরে নতুন কিছু করার চিন্তাও করেন না। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের চোখ-কান খোলা রেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে দলের হাইকমান্ড অনুরোধ জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন আমাদের চেয়ারপারসন। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তার সুদৃঢ় নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ ছিল, আছে ও থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সুতরাং তাকে মাইনাস করে বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী আদর্শের শক্তি নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তাই করে না। ’

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি প্রধানের সাজা হলে কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দলের একটি গঠনতন্ত্র আছে। দল চলবে গঠনতান্ত্রিকভাবে। তাছাড়া জেলে থেকেও দলের চেয়ারপারসনের নেতৃত্ব দিতে সমস্যা হবে না। আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিসহ একটি নির্বাহী কমিটিও রয়েছে। কোটি কোটি জিয়ার সৈনিক রয়েছে। দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। ’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপির হাল কে ধরবেন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কোনো বৈঠক বা আলোচনা করেনি। এসব খবর কাল্পনিক। ’

জানা যায়, খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, নতুন নির্বাচন কমিশনসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে দেশব্যাপী জনসভা করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলতি মাসেই একটি জনসভা করতে পারে দলটি। এতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার চেষ্টাও চালাবে দলটি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে করা বৈঠকে বেগম জিয়া নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিভাগওয়ারী জনসভা করার ইঙ্গিত দেন। এ ছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলও ঢাকা মহানগর নেতাদের পাশাপাশি গতকালের যৌথসভায় এ নিয়ে নেতাদের মনোভাব জানেন। খুব শিগগিরই এ কর্মসূচির রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।

জানা যায়, সিরিজ বৈঠকে সারা দেশের সাংগঠনিক জেলাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন বেগম জিয়া। এরই অংশ হিসেবে গতকাল একসঙ্গে চার জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়। এখনো প্রায় অর্ধশত জেলায় কমিটির বাকি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রায় সব জেলার কমিটি ঘোষণা করা হবে। এদিকে খুব শিগগিরই দুই ভাগে ঢাকা মহানগর কমিটি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল ও জাসাসের কমিটি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানেও নতুন নেতৃত্ব আসছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সব কমিটি গঠন করে রাজপথমুখী গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

দলের সিনিয়র একাধিক নেতা বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর ‘নিষ্ফল’ আন্দোলনে ঝিমিয়ে পড়ে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। মামলা-হামলায় কাবু হওয়া নেতা-কর্মীরা ঘরও ছাড়ে। আন্দোলনে অনেক প্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি পঙ্গুত্বও বরণ করেন নেতা-কর্মীরা। বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্যমতে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এখনো ৫ লাখের ওপর মামলা। সেখানে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা পর্যন্ত এসব মামলার আসামি। এসব কারণে টানা দুই বছর রাজপথের কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, আগামী দিনে বিএনপির সব কর্মসূচিই হবে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। নেতা-কর্মীদেরও সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে। অতীতেও বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সরকার থেকেই কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জ্বালাও পোড়াও করে। যার দায়ভার আসে বিএনপির ওপর। ভবিষ্যতে এসব বিষয়েও সতর্ক থাকতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেগম জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো গ্রাউন্ডেই জেল দিতে পারে না সরকার। এটা কোনো ইয়ার্কিও নয়। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা। এখন প্রয়োজন আদালতের ন্যায়বিচার। একই ধরনের প্রধানমন্ত্রীর ১৩টি মামলা খালাস করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে খালেদা জিয়ার জেল হবে কেন?

up-arrow