Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৬
পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী
আমার পরিবারকে জড়িয়েও হেয় করার চেষ্টা হয়েছে
নিজামুল হক বিপুল
আমার পরিবারকে জড়িয়েও হেয় করার চেষ্টা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছিল।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই মিথ্যা অভিযোগের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিযোগটি যে মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বৈঠকে প্রায় ৪০ মিনিট আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের কথা উঠেছিল। একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও তার একজন উপদেষ্টা বিশ্বব্যাংকের দোহাই দিয়ে তাদের গ্রেফতারের জন্য তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) পদত্যাগ করবেন, তবুও মন্ত্রী-সচিব কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সেতু সচিব গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে আরও জানান, পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জড়িত। এ প্রসঙ্গে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাকে ফোন করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বহাল রাখার জন্য তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব নাকচ করে বলেছিলেন, দেশের আইন অনুযায়ী ড. ইউনূসের এমডি পদে থাকার বয়স পার হয়ে গেছে। তিনি তাকে (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) ব্যাংকে একটি সম্মানজনক পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকার, মন্ত্রী এবং আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছে। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের নেতা সিদ্দিকুর রহমানের উপস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তা পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। পরে ওই কর্মকর্তার ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, অনির্ধারিত আলোচনায় পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের দায়ের করা মামলা কানাডার আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বৈঠকে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে শুরু থেকেই দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন এবং বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য সবাইকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তেও এটি প্রমাণিত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনের কারণে সেতুর কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। সময়মতো কাজ শুরু হলে ২০১৫ সালে সেতুর কাজ শেষ হতো। এতে আমাদের জিডিপিও বৃদ্ধি পেত ১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় আমাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আমরা যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেটা সঠিক।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow