Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫০
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এবার বসা উচিত প্রধানমন্ত্রীর
মাহমুদ আজহার
রাজনৈতিক দলের

সঙ্গে এবার বসা

উচিত প্রধানমন্ত্রীর
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ

রাষ্ট্রপতির সংলাপের পথ ধরেই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বসা জরুরি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি  বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন যে প্রক্রিয়ায় গঠন করেছেন, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কারও অমান্য করা উচিত হবে না।

এটাও ঠিক, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শুধু নির্বাচন কমিশনই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গ্যারান্টি দিতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। রাষ্ট্রপতি ৩১টি রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করলেন। একইভাবে এ দেশে সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সব দলের সঙ্গে বসা উচিত। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের আবহ তৈরি হবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের স্বার্থেই এটা জরুরি। এটা যত তাড়াতাড়ি হবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল। ’

রাজধানীর কাঁটাবনের নিজ বাসায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছিলেন, এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য করতে হয়েছে।

আমরা কিছু দিনের মধ্যেই সব দলের অংশগ্রহণে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন ব্যবস্থা করব। এটা তার প্রতিশ্রুতি ছিল। একজন নাগরিক হিসেবে আমি তাকে এ বিষয়টি স্মরণ করে দিতে চাই। তিনিও এ দেশের একজন নাগরিক। রাষ্ট্রপতি যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীরও। বিশেষ করে বড় দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে একটি নির্বাচনের আবহ তৈরি করতে হবে। ’ প্রবীণ এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘সরকার তার নিজের অবস্থানে অটুট থাকলে আগামীতেও দেখা যাবে, অনেক দলই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তখন এর দায় শুধু ওই দলেরই নয়, ক্ষমতাসীন দলের ওপরও বর্তাবে। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ক্ষমতাসীন দলকেই। সুতরাং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে এই কাজটি করতে হবে। নইলে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমরা যেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচিত হয়েছি, তা আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যতটুকু হয়েছে, তাও ত্বরান্বিত হবে না। বাংলাদেশে এখন জরুরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ’ বিএনপির উদ্দেশে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিরও সরে যাওয়া ঠিক হবে না। তাদেরও অংশগ্রহণ করা জরুরি। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের দেওয়া ১৩ দফার মধ্যে সহায়ক সরকারের কথা রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই তিনি সেই রূপরেখা তুলে ধরবেন। রূপরেখা কী হবে তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি মনে করি, নির্বাচন যখন জাতীয় সংসদের হবে, তখন জাতীয় সংসদকে অক্ষত রেখেই নির্বাচন করতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী যে ক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তা অক্ষুণ্ন রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাকে রুটিন মাফিক কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। ’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনেকগুলো নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচন সবাই গ্রহণ করেছে। ওই সব নির্বাচনে সেনাবাহিনীও মাঠে ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। কোন কর্মকর্তাকে সরাতে হবে, কাকে আনতে হবে-তার দায়িত্ব থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনের। স্বরাষ্ট্র ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। ’

 

up-arrow