Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৫
এবার অনিয়মের অভিযোগ বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে
শুল্কমুক্ত ১৬ গাড়িসহ পাসবুক তলব
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার অনিয়মের অভিযোগ বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে

শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারে  কূটনীতিকদের পর এবার বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ হওয়া ১৬টি গাড়িসহ পাসবুক তলব করেছে।

এই গাড়িগুলো কোথায় আছে, তা বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি বা কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে জানতে চেয়ে পত্র দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা।

পত্রে উল্লিখিত বিশ্বব্যাংকের ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হলেন—পারমিতা দাস গুপ্ত, শুকুন্তলা আকমিজানা, কাথুয়নেল খু, ভিনায়া সওরোপ, ওউসমানে সেকল, জোসি এডগাডো লোডযকামোডস, মিরাভ তুলিয়া, ডায়িড, ঘরিনা ইগোরকিনা, মৃদুলা সিংহ, তাহসেন সৈয়দ খান, মায়ুমি ইসোঘান, তানিয়া মানা ডি মিরাচেনকো, কেরেন ওযার, ফাবিও পিটালুগা এবং হেলেন জয় ক্রাইগ। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা ও দাতা সংস্থাগুলো শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে একটি পাসবুক নিতে হয়। এই সুবিধার আলোকে বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশে আসে। এগুলো ব্যবহূত হয়েছে। কিন্তু এই গাড়িগুলো কোথায় আছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্বব্যাংক দেয়নি। এই গাড়িগুলো সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। গাড়িগুলো আনার বিষয়ে এন্ট্রি আছে তবে হস্তান্তরের বিষয়ে তথ্য নেই। এটি শুল্ক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মইনুল খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেসব দাতা সংস্থা বা বিদেশি নাগরিক শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন, তারা তাদের কাজ শেষ হওয়ার আগে তা শুল্ক কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেবেন। অথবা এই গাড়িগুলো একই মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন। অথবা শুল্ক কর্তৃপক্ষকে। নিলামও করতে পারবেন। তবে এসব ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়া দেশীয় কারও কাছে বিক্রি করলে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে এবং শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে।

এই ১৬টি গাড়ি সম্পর্কে জানাতে একটি নোটিস দিয়ে জানা গেছে, যারা গাড়িগুলো ব্যবহার করেছেন, তারা দেশে নেই। ব্যবহারকারীরা কবে দেশে এসেছিলেন এবং কবে দেশ ত্যাগ করেছেন এসব তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে গাড়ি বিক্রি করে চলে গেছেন। এটা হয়ে থাকলে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজন হলে গাড়িগুলো জব্দ করে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ব্যবহারকারীরা বিক্রি করে সুবিধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক আইন, ১৯৬৯ ও মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

up-arrow