Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭
৩৭০ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশ
শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্
৩৭০ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশ

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শুধু ডিজিটালের দিকেই এগোচ্ছে না, খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষিতেও এগিয়ে যাচ্ছে তাল মিলিয়ে।

বহুমুখী সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও এ খাতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। ছোট আয়তনের এ দেশ এখন বছরে ৩৭০ মিলিয়ন বা ৩৭ কোটি টন চাল উৎপাদনে সক্ষম। অল্প সময়েই খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এনেছেন দেশের কৃষকরা। ধান উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চাল রপ্তানি করে বাংলাদেশ  ছুঁয়েছে আরেকটি মাইলফলক। কৃষির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জীবিকার ধারা। নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে অর্থনীতির নতুন এক দিগন্ত দেখছে দেশবাসী।

২০২১ সালের মধ্যে ৩৭ কোটি টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে এ সাফল্যের কারিগর এ দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা কৃষক।

আর কৃষকের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) আবিষ্কৃত অধিক ফলনশীল ৮২টি নতুন জাতের ধান। এসব ধান চাষ করে কৃষকের মুখে আজ ফুটেছে হাসি। বছরের পর বছর দেশের চাষাবাদের জমি কমলেও ধান উৎপাদনে এগিয়ে গেছে দেশ। প্রতি বছর ৩৪ কোটি টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে ১২০ টন বীজ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হয়। সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হলে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৭ কোটি টন চাল উৎপাদন করা যাবে, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ব্রির পরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির। ব্রি মহাপরিচালক ড. ভাগ্য রানী বণিক বলেন, ব্রি গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রমে ৮২ ধরনের ধানের বীজ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ৫টি হাইব্রিড জাত। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ১২০ টন বীজ ব্রি থেকে এক হাজার লাইসেন্সধারী ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ডিলাররা যদি সঠিকভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে তা সরবরাহ করেন এবং দেশে কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ চাল বেশি উৎপাদন হবে। বর্তমানে আমরা ৩৪০ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নিচ্ছি। তবে সব মিলিয়ে ৩৭ কোটি টন চাল উৎপাদন করা সম্ভব। ’ ব্রি গবেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু ডিজিটালের দিকেই এগোচ্ছে না, খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষিতেও এগিয়ে যাচ্ছে তাল মিলিয়ে। বহুমুখী সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও এ খাতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। ছোট আয়তনের এ দেশ এখন বছরে ৩৪ কোটি টন চাল উৎপাদনে সক্ষম। অল্প সময়েই খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এনেছেন দেশের কৃষকরা। ধান উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চাল রপ্তানি করে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে আরেকটি মাইলফলক। কৃষির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জীবিকার ধারা। নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে অর্থনীতির নতুন এক দিগন্ত দেখছেন দেশবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো, এ বছর শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি। ধারাবাহিকভাবে এ সাফল্যের কারিগর এ দেশের লাখ লাখ সাধারণ কৃষক। কৃষকের শ্রম, কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি, কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণা ও সরকারের সদিচ্ছায় ধান চাষ ও চাল উৎপাদনের এ রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত ব্রি ৫টি হাইব্রিড ও ৭৭টি উচ্চফলনশীলসহ মোট ৮২টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে রোপা আমন মৌসুমের জন্য ৩৩, বোরো মৌসুমের জন্য ৩৩, রোপা আউশ মৌসুমের জন্য ৪, বোনা আউশ মৌসুমের জন্য ৭, রোপা ও বোনা আউশের উপযোগী ১ এবং বোরো আউশ মৌসুমে চাষ উপযোগী ১২টি জাত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমন মৌসুমে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধান বিআর-১১ ও বোরো মৌসুমে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রি ধান ২৮ ও ২৯। এ ছাড়া প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা ও পুষ্টিগুণ বিচারে ৭২টি হাইব্রিড জাতের মধ্যে ৮টি লবণ-সহনশীল, ২টি জলমগ্নতাসহিষ্ণু, ২টি ঠাণ্ডাসহিষ্ণু, ২টি খরা-সহনশীল ও ২টি খরাপরিহারী, ৩টি জিঙ্কসমৃদ্ধ এবং সুগন্ধি ও রপ্তানি উপযোগী ৪টি ধানের জাত রয়েছে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চফলনশীল ধানের জাত এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে ব্রি। গত ৪৫ বছরে ধান উৎপাদন তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ফলে ধান গবেষণায় ব্রি সারা বিশ্বে অর্জন করেছে খ্যাতি। ব্রি পরিচালক (গবেষণা) কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল মোমিন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। সরকার ব্রিকে বিভিন্নভাবে তদারক করছে। ব্রির গবেষকদের মেধা ও কৃষকের শ্রম কাজে লাগানোয় এসেছে সাফল্য। ব্রি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মৌসুম ও পরিবেশ-উপযোগী উচ্চফলনশীল (উফশী) ধানের জাত এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ফসল, মাটি, পানি, সারসহ নানাবিষয়ক কলাকৌশল উদ্ভাবন করছে। ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত দেশের মোট ধানি জমির ৮০ ভাগে চাষাবাদ করা হচ্ছে। আর এ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মোট উৎপাদনের ৯০ ভাগ। প্রতিষ্ঠানটি গবেষণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত উদ্ভাবন করেছে ৭৬টি ধানের জাত। ব্রি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ হলেও এখানকার হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৪.২ টন। চীন, জাপান ও কোরিয়ায় এ ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ থেকে সাড়ে ৬ টন। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধানের ফলন বাড়ানোর বিষয়টি ভাবনায় এনে সনাতন জাতের ধান এবং মান্ধাতা আমলের আবাদ পদ্ধতি ছেড়ে উফশী ধান ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে বলে জানান গবেষকরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow